তথ্যপ্রযুক্তি

সরকারি খাতে এআই ব্যবহারে গুরুত্ব আইসিটি মন্ত্রীর

সরকারি খাতে এআই ব্যবহারে গুরুত্ব আইসিটি মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে আস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, বর্তমানের ডিজিটাল বৈষম্য যেন ভবিষ্যতের এআই বৈষম্যে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দিনব্যাপী আন্ত:আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ১২টি অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘প্র্যাকটিসে এআই গভর্ন্যান্স: বাস্তব ব্যবহার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক সহযোগিতা’ শীর্ষক এ সম্মেলন ৬ ও ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং তুরস্ক সরকার যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, এআই এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তি নয়। এটি বর্তমান বাস্তবতা। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেবা প্রদান এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, প্রশ্ন শুধু কত দ্রুত এআই গ্রহণ করা যায়, তা নয়। বরং কীভাবে দায়িত্বশীল, বিচক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

এআই ব্যবস্থাপনার জন্য তিনটি মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন ফকির মাহবুব আনাম। এগুলো হলো আস্থা, সক্ষমতা ও সহযোগিতা।

আস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে দক্ষ জনবল, সক্ষম প্রতিষ্ঠান, সুশৃঙ্খল তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী আইনি কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো একটি দেশের কাছে এআই ব্যবহারের সব উত্তর নেই। টেকসই রূপান্তরের জন্য দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় জরুরি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এআই যেন বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখে। নতুন কোনো বৈষম্য তৈরি না করে, সেটিই নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনটি উদ্ভাবন, আস্থা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে। কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন উচ্চপর্যায়ের নীতিগত আলোচনা থেকে বেরিয়ে বাস্তব ও বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগযোগ্য উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

বিষয়:এআই ব্যবহার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সরকারি খাত

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…