অফিসে বসে কাজ করেও নিজেকে ফিট রাখবেন যেভাবে

সকাল থেকে বিকেল বেশির ভাগ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ। এর মধ্যে যাতায়াত, মিটিং, কাজের চাপ আর সময়মতো খাবার খাওয়ার ঝামেলা। ব্যস্ত কর্মজীবনে শরীরচর্চার জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের কাছেই কঠিন। তবে অফিসের রুটিনের মধ্যেই কিছু ছোট অভ্যাস যোগ করে শরীরকে সক্রিয় রাখা সম্ভব।
অফিসে দীর্ঘ সময় বসে থাকা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কাজের প্রয়োজনে বসে থাকতেই হয়, তবে একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে নড়াচড়া করা শরীরের জন্য ভালো অভ্যাস হতে পারে।
একটানা বসে থাকবেন না
কাজের চাপ থাকলেও দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে না থাকার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ পরপর চেয়ার থেকে উঠে একটু হাঁটুন। পানি নিতে যাওয়ার সময়ও সেটিকে কয়েক মিনিট হাঁটার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কম্পিউটারে কাজের সময় ঘড়িতে ছোট রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন, যাতে দীর্ঘ সময় বসে থাকার কথা মনে থাকে।
লিফটের বদলে সিঁড়ি
অফিস কয়েক তলায় হলে এবং শারীরিকভাবে উপযুক্ত মনে হলে মাঝে মাঝে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন। এতে দৈনন্দিন চলাফেরায় কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত হবে। তবে একেবারে শুরুতেই বেশি চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাই ভালো।
দুপুরের খাবারের পর একটু হাঁটুন
দুপুরের খাবার খেয়েই আবার ডেস্কে বসে পড়ার বদলে কয়েক মিনিট হাঁটতে পারেন। সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলতে গেলেও সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস করুন। অফিসে ছোট ছোট হাঁটার সুযোগ তৈরি করাই এখানে মূল কথা।
ডেস্কেই ছোট নড়াচড়া
চেয়ারে বসে কাজ করার সময়ও দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে না থেকে শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। ঘাড়, কাঁধ, হাত-পা সামান্য নড়াচড়া করার অভ্যাস শরীরকে কিছুটা সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে কোনো ব্যায়ামে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে সেটি বন্ধ করা উচিত।
পানির বোতল কাছে রাখুন
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই পানি খাওয়ার কথা ভুলে যান। ডেস্কে পানির বোতল রাখলে নিয়মিত পানি পান করার কথা মনে থাকবে। তবে কতটা পানি প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত পানি পান করাও প্রয়োজনীয় নয়।
অফিসের খাবারে একটু সচেতনতা
প্রতিদিন বাইরের ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভর না করে সম্ভব হলে পরিমিত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার বেছে নিন। খাবারের সঙ্গে শাকসবজি, ফল ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। অফিসের টেবিলে সারাক্ষণ বিস্কুট, চিপস বা মিষ্টি জাতীয় খাবার রাখলে অজান্তেই বেশি খাওয়া হয়ে যেতে পারে।
যাতায়াতেও যোগ হতে পারে শরীরচর্চা
অফিস খুব কাছে হলে এবং পরিবেশ ও নিরাপত্তা অনুকূল থাকলে হাঁটা বা সাইকেল চালানোর সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন। দূরে হলে যাতায়াতের আগে-পরে অল্প সময় হাঁটার অভ্যাস করা যায়। মূল বিষয় হলো, দিনের সবটুকু সময় যেন বসে না কাটে।
অফিস শেষে ঘুম ও বিশ্রামও জরুরি
ফিট থাকার অর্থ শুধু ব্যায়াম করা নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অফিসের কাজ শেষ করে বাড়িতেও যদি দীর্ঘ সময় ফোন বা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকেন, তাহলে দিনের মোট নিষ্ক্রিয় সময় আরও বেড়ে যায়। তাই কাজের বাইরে নিজের জন্য কিছুটা সক্রিয় সময় রাখুন।
শেষ পর্যন্ত ফিট থাকার জন্য প্রতিদিন জিমে যাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। অফিসে লিফটের বদলে সিঁড়ি, ডেস্ক থেকে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটা, দুপুরের পর একটু নড়াচড়া এমন ছোট ছোট অভ্যাসও দৈনন্দিন জীবনকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।
কাজ যতই ব্যস্ত হোক, শরীরটাও যে আপনার কাজেরই অংশ এ কথা মনে রাখাই সবচেয়ে জরুরি।






