লাইফস্টাইল

জাপানে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির খোঁজে

জাপানে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির খোঁজে

জাপানের কোবে বন্দরে ১১০ বছর আগে পা রেখেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্ত্রী চন্দনা ও মেয়ে অনিন্দিতা (আনি)-কে নিয়ে সেই ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখলেন সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথের জাপান সফরের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘ফাইন্ডিং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন জাপান’ শিরোনামে ধারাবাহিক ভ্রমণকাহিনি লিখছেন সঞ্জয়। এর প্রথম পর্বের বিষয় জাপানের বন্দরনগরী কোবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তিনবার জাপান সফর করেছিলেন। ১৯১৬, ১৯২৪ ও ১৯২৯ সালে। ১৯১৬ সালের প্রথম সফরে জাপানে প্রবেশের পথ ছিল কোবে বন্দর। ওই বছরের ২৯ মে ‘তোসামসু’ নামের একটি জাপানি জাহাজে করে সেখানে পৌঁছান কবি। প্রথম সফরে প্রায় তিন মাস জাপানে অবস্থান করেছিলেন তিনি।

সঞ্জয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, কোবে বন্দরের যে স্থানে রবীন্দ্রনাথ প্রথম জাপানের মাটিতে পা রেখেছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন তার স্ত্রী চন্দনা ও মেয়ে আনি। বন্দরে কবিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন জাপানের দুই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ইয়োকোয়ামা তাইকান ও কাতসুতা শোকিন।

ভ্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য ছিল কোবের ওরিয়েন্টাল ক্লাব, যা বর্তমানে ‘দ্য ইন্ডিয়া ক্লাব’ নামে পরিচিত। এই স্থানেই জাপানে প্রথম বক্তৃতা দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

‘ইন্ডিয়াস মেসেজ টু জাপান’ শিরোনামের সেই বক্তৃতায় তিনি সংকীর্ণ ও আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বিশ্বমানবতার আদর্শ তুলে ধরেন। দেশপ্রেম যেন মানবতার চেয়ে বড় হয়ে না ওঠে, সেই বার্তাও দিয়েছিলেন কবি। তার বক্তব্য ছিল, ‘আমি যত দিন বেঁচে থাকব, দেশপ্রেমকে কখনোই মানবতার ওপর স্থান দেব না।’

সঞ্জয়ের মেয়ে আনিকে দেখা গেছে কোবের ‘দ্য স্যাটারডে মর্নিং ক্লাব’-এর সিঁড়িতেও। রবীন্দ্রনাথ তার জাপান সফরের সময় এই ক্লাব পরিদর্শন করেছিলেন এবং এর সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

সঞ্জয়ের লেখায় আরও উঠে এসেছে, রবীন্দ্রনাথের প্রথম জাপান সফরের আয়োজক ও আতিথেয়তায় ছিল দেশটির খ্যাতনামা সংবাদপত্র ‘আসাহি শিমবুন’।

বিষয়:জাপান বক্তৃতা বন্দর নগরী রবীন্দ্রনাথ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…