রাতে পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও সকালে ঘুম ঘুম ভাব, শরীর ভারী লাগা কিংবা কাজে মনোযোগ দিতে কষ্ট হচ্ছে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সারাদিন ক্লান্ত লাগার কারণ যে শুধু কম ঘুম, তা নয়।
ঘুমের মান, দৈনন্দিন জীবনযাপন, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে কিছু শারীরিক সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে।
ঘুমের সময় ঠিক থাকলেও মান কেমন?
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। তবে শুধু ঘুমের সময় হিসাব করলেই বিষয়টি বোঝা যায় না। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে, ঘুমাতে দীর্ঘ সময় লাগলে কিংবা ঘুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর হলে পর্যাপ্ত সময় ঘুমিয়েও শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নাও পেতে পারে।
বিশেষ করে ঘুমের সময় নাক ডাকা, শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া বা বারবার জেগে ওঠার মতো ঘটনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
মানসিক চাপও ক্লান্ত করে
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অফিসের কাজ, পারিবারিক দায়িত্ব, অর্থনৈতিক চিন্তা কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা বিষয় মাথায় ঘুরতে থাকলে শরীর বিছানায় গেলেও মন সহজে বিশ্রামে যেতে পারে না।
ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও মনে হতে পারে, যেন ঠিকমতো বিশ্রাম হয়নি।
শরীরচর্চার অভাব
দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটাচলা খুব কম থাকলেও অলসতা ও ক্লান্তির অনুভূতি বাড়তে পারে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার পাশাপাশি ঘুমের মান উন্নত করতেও সহায়ক।
প্রতিদিনের রুটিনে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম যোগ করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন শরীরচর্চা না করলে হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম না করাই ভালো।
খাবারের দিকেও নজর দিন
অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কিংবা খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলেও শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত লাগতে পারে। নিয়মিত ও সুষম খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর করে দিনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য ভালো নয়।
অতিরিক্ত চা-কফি কি সমস্যা বাড়াচ্ছে?
ক্লান্তি কাটাতে অনেকেই দিনের মধ্যে একাধিকবার চা বা কফি পান করেন। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা বাড়াতে পারে। তবে দিনের শেষ ভাগে বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে কারও কারও ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
ফলে পরদিন আবার ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এভাবে তৈরি হতে পারে ক্লান্তি ও ক্যাফেইনের একটি চক্র।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন?
কয়েক দিন ঘুম ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার পরও যদি ক্লান্তি না কমে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ঘুমের ব্যাধি, সংক্রমণসহ বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে।
ক্লান্তির সঙ্গে অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কী করতে পারেন?
ক্লান্তি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা, ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো, নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক কার্যক্রম করা, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, দিনের শেষ ভাগে অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলা, মানসিক চাপ কমাতে নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া ইত্যাদি।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, ক্লান্তি নিজে কোনো রোগের নাম নয়; এটি শরীর বা মনের কোনো সমস্যার সংকেতও হতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি থেকে যায়, কারণটি খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।










