চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউটে মরক্কো, সঙ্গী ক্রোয়েশিয়া

বেলজিয়ামের বিদায়

Nagod
Bkash July

সুযোগ ছিল তিন দলের সামনে। দৌড়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম এবং মরক্কো। কানাডা আগেই পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছিল। গ্রুপ এফ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাজিটা জিতে চমক দেখিয়েছে মরক্কো। আফ্রিকার দেশটি ৩৬ বছর পর নক আউট পর্বে উঠে গেছে। সঙ্গী রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া।

Reneta June

‘সোনালী প্রজন্ম’র শেষ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট ও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে থাকা বেলজিয়াম।

বৃহস্পতিবার গ্রুপপর্বের শেষ রাউন্ডে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নেমেছিল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। অন্য ম্যাচে আগেই ছিটকে যাওয়া কানাডার বিপক্ষে জয় পেয়েছে মরক্কো, ২-১ গোলে।

দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মরক্কো, এক জয় ও দুই ড্রয়ে রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া জমাতে পেরেছে ৫ পয়েন্ট। গ্রুপের তিনে থেকে আসর শেষ করল বেলজিয়াম, পয়েন্ট ৪। কানাডা শেষ করল কোনো পয়েন্ট না তুলেই।

আহমাদ বিন আলী স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের শুরুর একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন কোচ রবের্তো মার্টিনেজ। জাতীয় দলের হয়ে শততম ম্যাচ খেলতে নামেন থিবো কোর্ত্তয়া। বেঞ্চে ছিলেন অধিনায়ক এডেন হ্যাজার্ড। ইনজুরির কারণে আগের দুই ম্যাচ খেলতে না পারা রোমেলু লুকাকুও শুরুর একাদশে ছিলেন না।

ম্যাচ শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গোলের সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। লুকা মদ্রিচের পাসে বল পেয়ে ডান পায়ে জোরাল শট নেন ইভান পেরিসিচ। অল্পের জন্য ডান পাশের পোস্ট ঘেঁষে বল চলে যায় বাইরে।

পরে ১৫ মিনিটে ঘটে নাটকীয় এক ঘটনা। আন্দ্রেজ ক্রামারিচকে বক্সের ভেতর ফাউল করেন ইয়ানিক কারাসকো। রেফারি ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান মদ্রিচ।

কিন্তু ভিএআরের সাহায্য নেয়ার পর রেফারি অফসাইডের সংকেত দেন। কারণ বক্সে ফাউলের ঘটনার আগে মদ্রিচ যখন শট নিচ্ছিলেন, অফসাইড পজিশনে ছিলেন ডেজান লভরেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামেন লুকাকু। ৪৯ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের অ্যাসিস্টে বল পেয়ে লুকাকুর হেড ঠেকান ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। পরের মিনিটেই মাতেও কোভাচিচের শট প্রতিহত করেন কোর্ত্তয়া।

বেলজিয়ামের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ গড়ে চাপে রাখে গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া। ৫৪ মিনিটে প্রথমে মার্সেলো ব্রোজোভিচ ও পরে মদ্রিচের কিক প্রতিহত করে কোর্ত্তয়া জাল অক্ষত রাখেন।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে মাঠে নামেন হ্যাজার্ড। পরের মিনিটে লুকাকুর কিক ডান পাশের পোস্টে লাগায় বঞ্চিত হয় বেলজিয়াম। কয়েক সেকেন্ড পর গোলরক্ষক বেরিয়ে আসায় পোস্ট ফাঁকা হলেও লুকাকু হেডে বল জালে জড়াতে পারেননি।

নয় মিনিট পর মদ্রিচের শট নেয়ার পর কোর্ত্তয়া ঝাঁপিয়ে বল ধরে দলের হাল ধরে রাখেন। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে থমাস মুনিয়েরের পাসে গোলমুখে বল পেয়ে ফিনিশিং দিতে ব্যর্থ হন লুকাকু। বেলজিয়াম হতাশায় নিমজ্জিত হয়।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে থোরগান হ্যাজার্ড ক্রস করার সময় ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক বল ধরতে গিয়ে অবস্থান থেকে সরে যান। ফাঁকায় বল পেয়ে অবিশ্বাস্যভাবে লুকাকু লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। টিভি ধারাভাষ্যকার বিস্ময় প্রকাশ করে বলে ওঠেন, এটি বোধ হয় তার ক্যারিয়ারের পাওয়া সবচেয়ে সহজ গোলের সুযোগ ছিল! একের পর এক গোলের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় বেলজিয়ামকে আসর থেকেই বিদায় নিতে হল।

আল সুমামা স্টেডিয়ামে আরেক ম্যাচে চতুর্থ মিনিটেই কানাডার বিপক্ষে এগিয়ে যায় মরক্কো। বাঁ-পায়ের দূরপাল্লার কিকে লক্ষ্যভেদ করেন হাকিম জিয়েচ।

ম্যাচের ২৩ মিনিটে আশরাফ হাকিমির বাড়ানো বল পেয়ে ছুটতে থাকেন স্ট্রাইকার ইউসেফ এন-নেসিরি। প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড় তার পিছু নিলেও আটকাতে পারেননি। নেসিরি ডান পায়ে শট নেয়ার সময় কানাডিয়ান গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার শরীর ও হাতের ফাঁক গলে বল জালে জড়িয়ে যায়। ২-০ গোলের লিড পেয়ে নক আউটে যাওয়ার রাস্তা মরক্কোর জন্য মসৃণ হয়।

খেলার ৪০ মিনিটে অ্যালিস্টিইর জনস্টনের নেয়া শট বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নায়েফ আগুয়ের্দ নিজেদের জালেই বল জড়ান। কানাডা পায় গোলের দেখা। বিরতির পর ৭১ মিনিটে কর্নার কিক থেকে আসা বলে হেড নিলেও অল্পের জন্য নিশানাভেদ করতে পারেননি জনস্টন।

ম্যাচের বাকি সময়ে আর কেউ গোলের দেখা না পাওয়ায় রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ডাগ আউটে থাকা মরক্কোর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা পরের রাউন্ডে পা দেয়ায় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভাসেন।

BSH
Bellow Post-Green View