কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে বিলকিছ-আলম পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে পাঠাগারের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন।
এর আগে পাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম খাঁনের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা ইমরান মাহফুজের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ মাওলা।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেন, কবি মো. আহসান উল্লাহ, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. এমদাদ উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সাংবাদিক আবু বকর সুজন, কোমাল্লা এবতেদায়ী স্বতন্ত্র মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক এ কে এম শামছুল হক, তরুণ ইসলামী বক্তা মাওলানা মোবারক বিন আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় অধ্যাপক আহমেদ মাওলা বলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে বইপাঠের কোনো বিকল্প নেই। আর পাঠাগারই বইপাঠের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র তৈরি করে। একটি সমাজ পাঠাগারের প্রতি কতটা আন্তরিক, তা দেখলেই সেই সমাজের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থার অনেকটা বোঝা যায়।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিলকিছ-আলম পাঠাগারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিদেরও এসব প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
পরে পাঠাগারের নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা বাড়াতে হবে। তরুণদের কীভাবে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখা যায় এবং তাদের শুদ্ধ জীবনের পথে ফিরিয়ে আনা যায়—এ বিষয়টি নিয়ে তিনি নিয়মিত ভাবেন।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পাঠাগার কার্যক্রম অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের নিয়ে পাঠাগারে আসা এবং তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা।
ইউএনও আরও বলেন, বিলকিছ-আলম পাঠাগারের মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কোমাল্লা গ্রামে পাঠাগারটির স্থায়ী ভবন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাঠাগারটি ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের শিশু-কিশোর ও তরুণদের জ্ঞানচর্চা, সাহিত্যপাঠ ও সাংস্কৃতিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।








