আন্তর্জাতিক

প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও কার্যকর হয়নি মৃত্যুদণ্ড, জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের

প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও কার্যকর হয়নি মৃত্যুদণ্ড, জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের

A picture taken on December 4, 2007 shows death row inmate Christa Pike entering a Knox County Criminal Court in Knoxville, Tennessee, US., obtained by Reuters on September 30, 2026. J. Miles Cary/ Knoxville News Sentinel/USA TODAY NETWORK via REUTERS NO RESALES. NO ARCHIVES. MANDATORY CREDIT. TPX IMAGES OF THE DAY

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

গত বুধবার ( ৬ অক্টোবর ) তাকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি। ৫০ বছর বয়সী পাইককে হাসপাতালে হাতকড়া পরা অবস্থায় জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ১৮ বছর বয়সে পাইক ও তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন। একটি সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত কর্ম প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের পরিচয় হয়েছিল।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পাইককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি বেশ কয়েকদিন অচেতন ছিলেন। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া রাসায়নিক অপসারণের চেষ্টা করেন। পরে তার জ্ঞান ফেরে এবং তিনি কথা বলতে শুরু করেন।

পাইকের আইনজীবীরা তার অবস্থার উন্নতিকে ‘চিকিৎসাগতভাবে অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইনজীবীদের ভাষ্য, সুস্থ হতে তার দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অধ্যাপক ও অপরাধবিজ্ঞানী ডেবোরা ডেনো বলেন, পাইকের জ্ঞান ফিরে কথা বলার ঘটনায় তিনি ‘একেবারে হতবাক’।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে আরও কয়েকজন বন্দি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গেছেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে জল্লাদরা বন্দিদের শিরায় প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রবেশ করাতেই পারেননি।

ডেনোর মতে, পাইকের ঘটনা আলাদা। কারণ, তার ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপরও তিনি বেঁচে গেছেন।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় যা যা করার কথা ছিল, তা করা হয়েছিল; কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।

পাইকের চিকিৎসক দলের উপদেষ্টা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. জোয়েল জিভোটও তার বেঁচে যাওয়াকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন নেওয়া অধিকাংশ বন্দিই মারা যান।

তবে পাইকের শরীরে ঠিক কতটা পেন্টোবার্বিটাল প্রবেশ করেছিল, ইনজেকশনের পর রক্তে ওষুধটির মাত্রা কত ছিল এবং তার শরীর কীভাবে এর প্রভাব কাটিয়ে উঠছে—এসব বিষয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।

জিভোটের ধারণা, পেন্টোবার্বিটাল হয়তো পাইকের রক্তপ্রবাহে ঠিকমতো প্রবেশ না করে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, দুটি ডোজ যদি স্বাভাবিকভাবে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করত, তাহলে পাইকের মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।

তার চিকিৎসকদের আশঙ্কা ছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর চিকিৎসা দিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় তার মস্তিষ্কে ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে আরও সময় প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তারা।

পাইকের আইনজীবীরা আগে আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, তার সরু শিরা ও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার সময় তিনি অপ্রয়োজনীয় ব্যথা ও যন্ত্রণার শিকার হতে পারেন। মঙ্গলবার তারা জানান, তার দুই বাহু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে কি না। একই সঙ্গে কেন প্রাণঘাতী ইনজেকশন কাজ করেনি, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের এক-তৃতীয়াংশের বেশি ছিল ত্রুটিপূর্ণ বা গুরুতর সমস্যাযুক্ত। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ক্ষেত্রে শিরায় নির্ভরযোগ্যভাবে আইভি প্রবেশ করাতে না পারা এ ধরনের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ।

টেনেসিতেই চলতি বছরের শুরুতে আরেকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তিনজনকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে দণ্ডিত টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কর্মীরা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন। পরে তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীদের ন্যাশভিলে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তারা তার শারীরিক অবস্থা ও ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।

বিষয়:ক্রিস্টা পাইক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…