আন্তর্জাতিক

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থ, পদত্যাগ করছেন টেনেসির কারা প্রধান

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থ, পদত্যাগ করছেন টেনেসির কারা প্রধান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে টেনেসির গভর্নর বিল লি ও টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা এ তথ্য জানান।

স্ট্রাডা বলেন, অঙ্গরাজ্যের স্বার্থে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তিনি পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল, তা নিয়ে চলমান তদন্তকে সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।

গভর্নর বিল লি বলেন, কমিশনার স্ট্রাডা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কঠিন সময়ে টেনেসির মানুষের স্বার্থকে সবার আগে রাখার জন্য আমি তার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করি।

১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পাইকের আইনজীবীদের দাবি, দুটি ডোজ দেওয়ার পুরো সময় তিনি কাঁদছিলেন, কাতরাচ্ছিলেন এবং জোরে শ্বাস নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি অচেতন ছিলেন এবং তাকে ইনটিউবেট করে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল।

আইনি নথি অনুযায়ী, টেনেসির ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। শরীরে দেওয়া ওষুধের প্রভাব কমাতে চিকিৎসকেরা কাজ করছেন। বর্তমানে তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

পাইকের আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের কারা প্রধানের পদত্যাগকে ন্যায্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তারা বলেছেন, এতে এখন ক্রিস্টার কোনো উপকার হচ্ছে না।

আইনজীবীদের ভাষ্য, বুধবারের ঘটনা কোনো এক ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়। এটি টেনেসির পুরো মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন।

ঘটনার পর গভর্নর লি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে চলতি বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।

টেনেসির কারা বিভাগ অবশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত প্রটোকলে সম্পন্ন করা প্রক্রিয়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।

কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা আবার করা হবে কি না। কী কারণে বুধবারের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে পাইকের আইনজীবীরা শুক্রবার জরুরি আবেদন করে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘সব ধরনের প্রমাণ’ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে আইনজীবীরা সতর্ক করেছিলেন, পাইকের শারীরিক অবস্থার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশনে অপ্রয়োজনীয় ব্যথা ও যন্ত্রণার ঝুঁকি রয়েছে। তার থ্রম্বোসাইটোসিস নামে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা এবং ছোট আকারের শিরা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছিলেন।

পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে একাধিক আইনি উদ্যোগ নিলেও তা ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন বন্ধে করা দুটি পৃথক আবেদন নাকচ করে দেয়। পরে টেনেসির গভর্নরও তার ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

পাইকের বয়স তখন ১৮ বছর, যখন ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন তিনি। হত্যাকাণ্ডটি টেনেসির নক্সভিলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরের বছর পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

টেনেসির ডেথ রোতে থাকা একমাত্র নারী ছিলেন ক্রিস্টা পাইক।

বিষয়:ক্রিস্টা পাইক টেনেসি অঙ্গরাজ্যে পদত্যাগ ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর যুক্তরাষ্ট্র

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…