পদত্যাগের ঘোষণা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দের

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তার এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা পদত্যাগের জল্পনার অবসান হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন।
ইসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, লাগার্দ গভর্নিং কাউন্সিল এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগের সুযোগ দিতে এ সময় বেছে নেওয়া হয়েছে। জনমত জরিপে ডানপন্থী প্রার্থী মেরিন লে পেন এগিয়ে রয়েছেন বলে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাগার্দের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ক্লাস নট এবং স্পেনের সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান পাবলো হার্নান্দেজ দে কোসের নাম আলোচনায় রয়েছে।
লাগার্দের মেয়াদ ২০২৭ সালের অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে কয়েক মাস ধরেই তার আগাম পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকেও তার ভবিষ্যৎ গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
এমন এক সময়ে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন, যখন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট চাপ যেন অন্যান্য পণ্য ও সেবার দাম এবং মজুরিতে ছড়িয়ে না পড়ে, তা ঠেকানোর চেষ্টা করছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে। বিশেষ করে ঋণের বোঝায় জর্জরিত ফ্রান্সে এ পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর ফলে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। লাগার্দ আগেই সতর্ক করে বলেছেন, অর্থায়নের ব্যয় বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে।
জ্বালানির দাম আবার বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থায়নের পরিস্থিতির অবনতিও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির আমানতের ওপর সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তবে আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হতে পারে।






