ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং রিপাবলিকান পার্টির অতি-ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ মার্জোরি টেলর গ্রিন হঠাৎ করেই কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক তীব্র দ্বন্দ্বের পর শুক্রবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
শনিবার (২২ নভেম্বর) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
৫১ বছর বয়সী জর্জিয়ার এই কংগ্রেসওম্যান বলেন, তিনি সবসময় সাধারণ আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যার কারণে ওয়াশিংটনে তাঁকে কখনোই উপযুক্ত মনে করেনি। তিনি চান না প্রেসিডেন্টের দ্বারা তার সমর্থক ও পরিববার অপমানের শিকার হোক।
গ্রিন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ও অবমাননাকর নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আমার পরিবার ও সমর্থকদের ওপর এমন আঘাত চাপিয়ে দিতে চাই না।
ট্রাম্প গ্রিনের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দেশের জন্য দারুণ খবর। এক সাক্ষাৎকারে এবিসি নিউজকে তিনি একথা বলেন ।

ট্রাম্পের মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (ম্যাগা) আন্দোলনের আইকনিক মুখ হিসেবে পরিচিত গ্রিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে যখন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের সরকারি ফাইল প্রকাশে গ্রিন দৃঢ় অবস্থান নেন।
ট্রাম্প এ বিষয়টিকে “ডেমোক্র্যাটদের প্রতারণা” বলে বাতিল করেছিলেন এবং আগে দেওয়া ফাইল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় তাঁর অনেক সমর্থকদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের যৌথ চাপের মুখে পড়ে ট্রাম্প এই সপ্তাহে এপস্টাইনের ফাইল প্রকাশের বিল স্বাক্ষর করেন।
চলতি বছর গ্রিনই প্রথম রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা যিনি গাজায় ইসরায়েলের হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
এর পর থেকেই ট্রাম্প তাঁর প্রতি একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তাঁকে “রিপাবলিকান পার্টির প্রতি বিশ্বাসঘাতক” বলে আক্রমণ করেন। গ্রিন জানান, এই সময় তিনি হুমকিও পেয়েছেন।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্রিনের এই আকস্মিক পদত্যাগ মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক অফ-ইয়ার নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী জয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বামপন্থী মেয়র-নির্বাচিত জোহরান মামদানির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৈঠক—সব মিলিয়ে ম্যাগা শিবিরের ভেতরেই গভীর বিভক্তি তৈরি হয়েছে। গ্রিনের পদত্যাগ সেই বিভক্তিরই নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।








