মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জাতীয় ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক জনমত জরিপে রিপাবলিকান পার্টির চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে রিপাবলিকানরা।
মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। রিয়েল ক্লিয়ার পোলিংয়ের সর্বশেষ জাতীয় গড় জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৫২ শতাংশ ভোটারের। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের আসনভিত্তিক পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদের ২২২টি আসনে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান সুবিধাজনক। বিপরীতে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ১৯৫টি আসনে। বাকি ১৮টি আসনে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। টেক্সাস, পেনসিলভেনিয়া ও কলোরাডোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকাগুলোতেও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ডেমোক্র্যাটরা। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটভিত্তিক সাম্প্রতিক জরিপে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি আসনের মধ্যে ছয়টিতেই ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস, ক্যানসাস ও ওহাইওতেও ডেমোক্র্যাটদের ভালো অবস্থান দেখা যাচ্ছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সাইয়েদ ৫৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে এপি-এন ও আর সি পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ভোটার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন কমে ৩৬ থেকে ৩৮ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে।
তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শেষ মুহূর্তে নিরপেক্ষ ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং ভোটার উপস্থিতির হার নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।





