মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক বললেন, ‘সব সময় যন্ত্রণায় থাকি’

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া নারী ক্রিস্টা পাইক প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন। ৫০ বছর বয়সী এই নারী জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তিনি সারাক্ষণ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাইক বলেন, সেই রাতের পর এমন কোনো মুহূর্ত আসেনি, যখন আমি ব্যথামুক্ত ছিলাম। এই যন্ত্রণা শারীরিক ও মানসিক, দুই ধরনের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পাইক বলেন, ওই রাতের পরের জীবন নিয়ে তিনি কখনো ভাবেননি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অদক্ষতার কারণে এত মানুষের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।
১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে পাইক তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী এক সহপাঠীকে নির্যাতন, ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নিহত তরুণীর মা ফ্লোরিডা থেকে টেনেসিতে গিয়েছিলেন।
বিবৃতিতে পাইক নিহতের পরিবারের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও স্বজন হারানোর কষ্টের কথা তিনি এখনো ভাবেন।
পাইকের আইনজীবীদের দাবি, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ ফেনোবারবিটালের দুটি পৃথক ডোজ দেওয়া হলেও তা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করেনি। বরং ওষুধটি তাঁর দুই হাতে জমে গিয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষত ও ফোসকার সৃষ্টি করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ চেষ্টার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন তিনি অচেতন ছিলেন।
এ ঘটনার পরও পাইকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। বর্তমানে তাঁকে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতের কাছে অন্য বন্দিদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর তাঁকে একা রাখায় গুরুতর মানসিক ক্ষতি ও আঘাত তৈরি হয়েছে।
পাইকের আইনজীবীরা টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছেও তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গভর্নর বলেন, আদালত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে তাঁর ধারণা, আগের সাজাই বহাল থাকবে।
পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টা টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনায় গভর্নর একটি স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত রাজ্যের অন্য একটি প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর টেনেসি সংশোধন বিভাগের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।






