দুইবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা, জ্ঞান ফিরতেই বললেন ‘আমি কোথায়?’

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি ক্রিস্টা পাইকের। কয়েক দিন অচেতন থাকার পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরেছে ৫০ বছর বয়সী এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির। জ্ঞান ফেরার পর তিনি ছিলেন ‘ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত’। প্রথমেই জানতে চান, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনারা কে?’
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তবে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বেঁচে যাওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন।
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পিভি বুধবার আদালতে শুনানি শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানান, কয়েক দিন ধরে তারা আশঙ্কা করেছিলেন পাইক হয়তো মস্তিষ্কে মৃত অবস্থায় আছেন। যেকোনো সময় তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও ধারণা করেছিলেন তারা।
তবে মঙ্গলবার হঠাৎ কথা বলতে শুরু করেন পাইক। যদিও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার বিষয়ে তার স্মৃতি খুবই সীমিত।
স্পিভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইক নিজেই কর্মকর্তাদের তার হাতে শিরা খুঁজে পেতে সহায়তা করেছিলেন। ইনজেকশন দেওয়ার সময়ও তিনি শান্ত ছিলেন। পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর গলায় একটি টিউব এবং চারপাশে অপরিচিত মানুষ দেখতে পান।
বর্তমানে পাইকের দুই হাত প্রচণ্ড ফুলে গেছে। এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং গিলতে পারছেন না।
আইনজীবী স্পিভি বলেন, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের এই ঘটনার মানসিক প্রভাব পাইকের ওপর কতটা পড়বে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে জ্ঞান ফেরার পর তিনি ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ব্যবহৃত সব আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জরুরি শুনানিতে পাইকের আইনজীবীরা এ বিষয়ে আবেদন করেন।
বিচারক আই’শিয়া মাইলস মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে থাকা সবকিছু সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে আইভি লাইন, সিরিঞ্জ, ওষুধের প্যাকেজিং, লেবেলসহ অন্যান্য উপকরণ রয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে, সময় ও পরে পাইকের মানসিক অবস্থার নথিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এসব আলামত ভবিষ্যতে টেনেসে সরকারের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তি হতে পারে।
পাইক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত ও পা হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবীরা। চিকিৎসকদের অনুরোধ সত্ত্বেও তার হাতকড়া খোলা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তারা।
আইনজীবীরা পাইকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ এবং তাকে একটি ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে তাকে অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে আইনজীবীদের জানানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর টেনেসের গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। কী কারণে এই ব্যর্থতা ঘটেছে, তা জানতে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পাইক ১৮ বছর বয়সে তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেন। একটি সমস্যাগ্রস্ত কিশোরদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে তাদের পরিচয় হয়েছিল।
পাইক ও শিপ স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন। ঘটনার সময় শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়নি। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।





