বোমার হুমকি, ইসরায়েল থেকে আসা বিমান নামল বুলগেরিয়ায়

ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলার হুমকির পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানায়।
বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইটটি রোমানিয়ার সীমান্তের কাছে থাকা অবস্থায় ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। এরপর তারা বিমানটি সোফিয়ায় অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান যাত্রীবাহী বিমানটিকে সোফিয়া বিমানবন্দর পর্যন্ত পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে ছয়জন ক্রু ও ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। তারা সবাই বিমান থেকে নেমেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিমান সংস্থাটি জানায়, বিমানটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
ঘটনার পর একটি জরুরি সাড়াদান দল গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।
বিমান চলাচল ও ফ্লাইট পর্যবেক্ষণবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। পরে দক্ষিণ দিকে ঘুরে আবার বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে আসে।
বিমান পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্যেও দেখা যায়, একই সময়ে বিমানটি সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত ‘স্কোয়াক ৭৭০০’ পাঠাচ্ছিল।
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে এর আগে হামলার অভিযোগ
গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বিমানটি উড্ডয়নের পর সহকারী পাইলট কুড়াল দিয়ে পাইলটের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।
এ সময় বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট বা ৫ হাজার ১৮০ মিটার নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রী ও অন্য ক্রুরা অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ফ্লাইদুবাইয়ের অন্য পাইলটেরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান।
পরে বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক শহরের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানায়, সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করা। তারা ঘটনাটিকে ‘আত্মঘাতী’ মিশন হিসেবে বর্ণনা করে।
ওমানের নাগরিক অভিযুক্ত সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ইসরায়েল সরকার দেশটিতে অবতরণকারী সব বিমানের পাইলটদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়।





