লারাকে সঠিক প্রমাণ করে সেমিতে যাওয়ায় আনন্দিত রশিদ

ফুটবল মাঠে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা জয় উদযাপন করছে, আনন্দের মুহূর্ত।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ে ইতিহাস গড়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পা দিয়েছে আফগানিস্তান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ, ধারাভাষ্যকার ও সাবেক খেলোয়াড়রা যখন শেষ চারের জন্য নিজ নিজ ফেভারিট দলের নাম জানাচ্ছিলেন, তখন স্রোতের বিপরীতে গিয়ে আফগানদের পক্ষে বাজি ধরেছিলেন কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। তার কথা সত্যি প্রমাণ করতে পেরে খুশিতে ডুবে আছেন রশিদ খান।
সেমিফাইনালে কোন চার দল যাবে, তা নিয়ে লারা যাদের নাম বলেছিলেন তারা হল- ভারত, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান। ক্যারিবিয়ান গ্রেটের নিজ দেশের ব্যাপারে কথা মেলেনি, বাকি তিন দল ঠিকই শেষ চারের লড়াইয়ে পৌঁছে গেছে।
ম্যাচ শেষে রশিদ বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। একমাত্র ব্যক্তি যিনি আমাদের সেমিফাইনালে রেখেছিলেন, তিনি ছিলেন ব্রায়ান লারা। আমরা তাকে সঠিক প্রমাণ করেছি। এই দল নিয়ে আমি গর্বিত। যখন আমরা একটি পার্টিতে তার সাথে দেখা করি। তখন ওনাকে বলেছিলাম, আমরা আপনাকে হতাশ করব না।’
‘সেমিফাইনালে থাকাটা আমাদের জন্য একটা স্বপ্ন। আমরা যেভাবে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলাম, তখন বিশ্বাসটা এসেছিল।’
সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে আফগানিস্তানের সামনে সেমিফাইনালের রাস্তা খুলে যায়। ভারতের কাছে অজিদের পরাজয়ে সমীকরণটা আরও সহজ হয়ে যায়। নাটকীয় ম্যাচে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ৮ রানে হারিয়ে কাজের কাজটা ঠিকঠাকভাবে করেছে দলটি।
বাংলাদেশকে মাত্র ১১৬ রানের লক্ষ্য দেয়াটা রশিদের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। বললেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম এই উইকেটে ১৩০-১৪০ ভালো সংগ্রহ হবে। আমরা ১৫-২০ রান কম করেছিলাম। এখানে অবশ্য মানসিকতা ধরে রাখার ব্যাপার ছিল।’
‘আমরা জানতাম প্রতিপক্ষ আমাদের প্রতি মারমুখী হবে। জানতাম যে, আমরা এটার সুবিধা নিতে পারি। আমাদের অতিরিক্ত কিছু করার দরকার ছিল না, শুধু আমাদের পরিকল্পনায় স্পষ্ট অবস্থানে ছিলাম। বাড়ি ফিরে দেশের মানুষকে খুশি করতে চেয়েছিলাম। এমন ছিল আমাদের আলোচনা এবং সবাই চমৎকার কাজ করেছে।’
‘দেশে ফেরার অনুভূতি বর্ণনা করার মতো কোনো শব্দ আমার কাছে নেই। আমাদের খুব পরিষ্কার মন নিয়ে সেমিফাইনালে যেতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে আমরা উপলক্ষটি উপভোগ করছি।’
বৃষ্টির কারণে বারবার ম্যাচ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। মনোযোগে বিঘ্ন ঘটতে না দিয়ে জয়ের সংকল্পে সকলে অটুট ছিলেন, জানালেন আফগান অধিনায়ক। তার কথায়, ‘বৃষ্টি আমাদের হাতে ছিল না। কিন্তু মানসিকভাবে আমরা জানতাম ২০ ওভার খেলতে হবে এবং ১০ উইকেট নিতে হবে। জয়ের এটাই একমাত্র উপায়।’



