ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সমস্ত অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী হাজির হয়েছিলেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাকে ঘিরে স্লোগান দেওয়া নিয়ে এক সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। সেই সময় ‘চোর চোর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। উপস্থিত একাংশের দিকে উদ্দেশ্য করে মমতা ব্যানার্জী বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।”
ওই মামলাটি দায়ের করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজিত প্রার্থী ও আইনজীবী শীর্ষাণ্য ব্যানার্জী।
সেই মামলায় আইনজীবী হিসাবে আদালতে সওয়াল করেন মমতা ব্যানার্জী। এর আগে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা লড়তে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল মমতা ব্যানার্জীকে। তারপর আবার বৃহস্পতিবার ১৪ মে একই ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।
তাকে ঘিরে স্লোগান দেওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রসের তরফে ঘটনার নিন্দা করা হয় এবং বিজেপিকে দায়ী করা হয়।
জবাবে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাকে দেখলে মানুষ রাস্তায় চোর-চোর স্লোগান দেবে- এই কাজ বিজেপি করে না। এই পরিস্থিতি বিজেপি তৈরি করেনি। এই পরিস্থিতির জন্য যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে, সেটা তৃণমূল।
বার্তা সংস্থা এএনআই-র তথ্য অনুযায়ী, মমতা ব্যানার্জী আদালতে বলেন, ভোটের পরে শিশু, নারী, সংখ্যালঘু কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। প্রতিদিন এই সব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে। পুলিশ কিছু করছে না।
পাশাপাশি বলেছেন, রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা উত্তর প্রদেশ নয় বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, রাজ্যবাসীকে বাঁচান।
হাই কোর্টে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমার অনেক কাজ জানেন তো। এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই আমার কাছে। আর আমি এসব নিয়ে ভাবতেও রাজি নই।








