গাজা যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় হলিউড তারকাদের ‘কালো তালিকা’ ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি সদস্য ও খ্যাতিমান চিত্রনাট্যকার পল ল্যাভার্টি।
৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী দিনে তিনি বলেন, গাজায় নারী ও শিশু হত্যার বিরোধিতা করায় সুসান সারান্ডন, জাভিয়ের বারদেম ও মার্ক রাফালোর-এর মতো শিল্পীদের যেভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে, তা হলিউডের জন্য লজ্জাজনক।
দুইবার কান উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান পাম দ’অরজয়ী চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার পল ল্যাভার্টি হলিউডের তিন শিল্পীর নাম উচ্চারণ করে গলা উঁচিয়ে বলেন,“গাজায় নারী ও শিশু হত্যার বিরোধিতা করায় শিল্পীদের কালো তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। যারা এটা করছে, তাদের জন্য লজ্জা।”
কালো তালিকা ভুক্ত শিল্পীদের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “ওরাই আমাদের সেরাদের একজন।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কে এক ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর সুসান সারান্ডনকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর এজেন্সি থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে তিনি দাবি করেন, গাজা নিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে হলিউডে কাজ পাওয়া তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এদিকে, কান উৎসবে রাজনীতি ও শিল্পের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন জুরি বোর্ডের প্রধান, দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতা পার্ক চান উক। তিনি বলেন,“শিল্প ও রাজনীতি পরস্পরের বিরোধী নয়। যতক্ষণ তা শিল্পসম্মতভাবে প্রকাশ করা হয়, ততক্ষণ তা মূল্যবান।”
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পল ল্যাভার্টি। বিশেষ করে প্রযুক্তি জায়ান্টদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে তিনি সতর্ক করেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছি, ডানপন্থী ধ্যানধারণার প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া উচিত নয়।”
একই প্রসঙ্গে জুরি সদস্য ডেমি ম্যুর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও বলেন, সত্যিকারের শিল্পকে এইআই কখনোই প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।
তিনি বলেন, “সত্যিকারের শিল্প আত্মা থেকে আসে। সেটি কোনো প্রযুক্তি পুনর্নির্মাণ করতে পারবে না।”







