ক্রিকেট

ক্যাম্পবেল-কিং ঝড়ে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

ক্যাম্পবেল-কিং ঝড়ে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধস দেখেছে বাংলাদেশ। তবে নাঈম হাসানের ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায়। টাইগারদের সেই পুঁজি ওয়ানডে মেজাজে খেলেই তাড়া করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিংয়ের ব্যাটে ভর করে মিরপুরে টেস্ট ৮ উইকেটে জিতেছে ক্যারিবীয়রা।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৯৭.৪ ওভার ব্যাট করে ২৭২ রানে থেমে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জবাবে ৮২.৫ ওভারে ২৪৫ রানে থামে উইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ১৪২ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে লিড দাঁড়ায় ১৬৯ রান। ১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমে ৩৫.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় উইন্ডিজ।

রানতাড়ায় নেমে ঝড় তোলেন উইন্ডিজের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার। ১১২ রান তোলেন দুজনে। ২০.৫ ওভারে জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। জন ক্যাম্পবেলকে ফেরান ৪৯ রানে। ১২০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে ফেরান। ১ রানে ফেরেন চন্দরপল।

পরে ব্রেন্ডন কিং ও কাভেম হজ মিলে জয় নিশ্চিত করেন। কিং ১০ চার ও ১ ছক্কায় ১১৫ বলে ৮১ রান এবং হজ ২৭ বলে ৩১ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট নেন।

শনিবার ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে টিম টাইগার্স। জাকের আলি অনিক ১৮ এবং নাঈম হাসান ১৮ রানে শুরু করেন। দিনের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জাকের আলি অনিক ওয়ারিক্যানের বলে চেজের হাতে ক্যাচ দেন। ৩৪ বলে ২২ রান করেন। ৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় টিম টাইগার্স। অষ্টম উইকেটে হাসান মাহমুদকে নিয়ে ২৬ রান যোগ করেন নাঈম। ৪০তম ওভারের শেষ বলে ১১০ রানে জুটি ভাঙে, অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউ হন হাসান। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। ৩১ বলে ৮ রানে ফেরেন।

নবম উইকেটে তাইজুলকে নিয়ে নাঈম যোগ করেন আরও ১৬ রান। ৪৫তম ওভারের শেষ বলে ১২৬ রানে নবম উইকেটে হারায় স্বাগতিকরা। রোস্টন চেজের বলে বোল্ড হন তাইজুল। ১৬ বলে ৮ রান করেন। সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে বৃষ্টি নামে মিরপুরে। তাতে বন্ধ রাখা হয় খেলা। বৃষ্টি নামার আগে ৪৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৩২ রান, লিড ১৫৯ রানে।

২০ মিনিট পর পুনরায় খেলায় শুরু হয়। নাঈম আদায় করে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। ৮৭ বলে ফিফটির পথে ছিল ৪টি চারের মার। এরপর আর বেশিক্ষণ টিকেনি বাংলাদেশের ইনিংস। ৪৮.৪ ওভারে রোস্টন চেজের বলে লং অনে জশুয়া বিশপের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন নাঈম হাসান। তাতে ১৪২ রানে থামে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে ক্যারিবীয়দের সামনে ১৭০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে। নাঈম ৯১ বলে ৫২ রান করেন। ছিল ৪টি চারের মার। শরিফুল অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ৭ রানে।

শুক্রবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শামার জোসেফের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে খালি হাতে ফেরেন ওপেনার। এরপর ধস নামান রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যান।

৩৫ রানের মধ্যে আউট হন ৫ ব্যাটার। সাদমান (১৩), তাওহীদ হৃদয় (০, শান্ত ১০ ও লিটন দাস (৪)। চাপ কাটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুমিনুল হকের কানকাশন বদলি হিসেবে ব্যাটে নামা জাকের আলি অনিক। ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় হেলমেটে আঘাত পান মুমিনুল। পরে তার কনকাশন সাব করানো হয় জাকেরকে।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে মিলে যোগ করেন ১৮ রান। ৫৩ রানে মিরাজ আউট হলে জুটি আর বড় হয়নি। মিরাজ ৯ রান করে যান। এরপর জাকের ও নাঈম মিলে বাকি সময়টা পার করেন। জুটিতে যোগ করেন অবিচ্ছিন্ন ২৬ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়দের হয়ে চেজ ৫ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যান ৪টি এবং শামার জোসেফ নেন এক উইকেট।

এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাটে নেমে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন সাদমান ইসলাম। ১০৫ রান করেন। তাওহীদ হৃদয় ৪২, লিটন দাস ৩৪*, মুমিনুল হক ২৮ রান করেন। বাকিদের কেউ নামের সাথে সুবিচার করতে পারেননি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম ইনিংসে জোমেল ওয়ারিক্যান ৫ উইকেট নেন। জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফ নেন দুটি করে উইকেট। জেইডেন সিলেস নেন এক উইকেট।

জবাবে নেমে ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। জন ক্যাম্পবেল করেন ৫৪ রান। জাস্টিন গ্রিভস ৪৬ এবং রোস্টন চেজ অপরাজিত ৪৩ রান করেন।

বাংলাদেশ হয়ে প্রথম ইনিংসে নাঈম হাসান ১০.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন। মিরাজ ও তাইজুল নেন ২টি করে উইকেট। হাসান ও শরিফুল নেন একটি করে।

বিষয়:ওয়েস্ট ইন্ডিজ চতুর্থ দিন টেস্ট ঢাকা বাংলাদেশ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…