এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল: শিক্ষাব্যবস্থার গভীর অসুখের এক নির্মম ব্যবচ্ছেদ

ছবি: সংগৃহীত
একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনো কেবল কিছু শিক্ষার্থীর পাস-ফেলের হিসাব নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বাস্থ্য, শিক্ষকের যোগ্যতা, শ্রেণিকক্ষের বাস্তবতা, পাঠ্যক্রমের কার্যকারিতা, রাষ্ট্রের শিক্ষানীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার সামগ্রিক সক্ষমতার চিত্র। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তাই নিছক একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া এক অস্বস্তিকর আয়না।
প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এই সংখ্যার দিকে একটু স্থির হয়ে তাকান। এখানে ছয় লাখের বেশি তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা, বছরের পর বছর পড়াশোনার শ্রম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি করা অসংখ্য পরিকল্পনা এক মুহূর্তে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রত্যেকটি সংখ্যার পেছনে একটি পরিবার আছে, একজন অভিভাবক আছেন, একজন শিক্ষক আছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। আছে একটি রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র তাদের শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছিল।
প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কেন ব্যর্থ হলো? তারা কি সবাই অযোগ্য? তারা কি সবাই পড়াশোনা করেনি? নাকি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এমন এক পরীক্ষাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধা, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার চেয়ে পরীক্ষার খাতায় নির্দিষ্ট উত্তর লিখতে পারার দক্ষতাই বড় হয়ে উঠেছে?
এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গিয়ে কেবল শিক্ষার্থীদের দায়ী করা একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি পুরোনো প্রবণতা হচ্ছে, কোনো বিপর্যয় ঘটলে আমরা তার কারণ অনুসন্ধান না করে দায়ী মানুষ খুঁজতে শুরু করি। শিক্ষার্থীরা পড়েনি, শিক্ষকরা পড়াননি, অভিভাবকেরা সচেতন ছিলেন না—এ ধরনের চেনা ব্যাখ্যা দিয়ে আমরা নিজেদের দায়মুক্ত করতে চাই। কিন্তু ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী যখন একই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়, তখন বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ থাকে না। এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকট।

একটি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়, কলেজ, কোচিং সেন্টার, সহায়ক বই, পরীক্ষা, মডেল টেস্ট—কতগুলো ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। তার পেছনে পরিবারের অর্থ ব্যয় হয়, সময় ব্যয় হয়, জীবনের মূল্যবান কয়েকটি বছর ব্যয় হয়। এত দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর যদি অর্ধেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে না পারে, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
শিক্ষার্থীরা কি পাঠ্যবই বুঝে পড়েছে? শিক্ষকেরা কি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেছেন? কলেজগুলো কি নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করেছে? শিক্ষা প্রশাসন কি শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণ করেছে? নাকি আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে কিছু ভবন, পরীক্ষার নামে কিছু আনুষ্ঠানিকতা এবং শিক্ষার নামে সনদ বিতরণের একটি যান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রেখেছি?
আমাদের কলেজশিক্ষার বড় সংকট হচ্ছে পাঠদান ও মূল্যায়নের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা। শ্রেণিকক্ষে যা শেখানো হয়, পরীক্ষায় তার কতটুকু প্রতিফলন ঘটে? শিক্ষার্থীর বোঝার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য আমরা কতটুকু কাজ করি? অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে তৈরি করা হয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য, মানুষ হিসেবে চিন্তাশীল হয়ে ওঠার জন্য নয়। ফলে শিক্ষার উদ্দেশ্য সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি সনদ অর্জনে।
এবারের ফলাফলকে গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যায়। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। এবার তা নেমে এসেছে ৫২.১২ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কিন্তু আরও উদ্বেগজনক একটি তথ্য আছে। এবারের ফলে ২৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি।
একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার অর্থ কী? সেখানে কি কোনো শিক্ষক নেই? শিক্ষার্থীরা কি কেউ পড়াশোনা করেনি? প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কি সম্পূর্ণ অকার্যকর? নাকি সেখানে শিক্ষার নামে বছরের পর বছর একটি প্রহসন চলে আসছে? রাষ্ট্রের শিক্ষা প্রশাসন এসব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আগে কী জানত? যদি জানত, তাহলে ব্যবস্থা নেয়নি কেন? আর যদি না জানত, তাহলে এত বড় প্রশাসনিক কাঠামোর প্রয়োজন কী?
যে প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারে না, সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহি থাকা উচিত। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্বও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার শাস্তি যেন শিক্ষার্থীদের সারাজীবনের জন্য বহন করতে না হয়।
একটি জাতির শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তার শিক্ষকদের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে শিক্ষকতার পেশাকে কতটুকু মর্যাদা দেওয়া হয়? একজন শিক্ষককে যথাযথ প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ, সম্মানজনক কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত বিকাশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি?

শিক্ষকের মানোন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলি, শিক্ষকের দক্ষতা নিয়ে কথা বলি না। শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, কিন্তু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন করি না।
অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস হয় না। কোথাও শিক্ষকসংকট, কোথাও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার অভাব, কোথাও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা। আবার কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়োগবাণিজ্য এবং নানা ধরনের স্বার্থের প্রতিষ্ঠানে। এসব বাস্তবতা অস্বীকার করে কেবল শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার হিসাব করলে প্রকৃত সমস্যার নাগাল পাওয়া যাবে না।
ফলাফল খারাপ হলেই কেউ কেউ বলেন, পরীক্ষা কঠিন হয়েছে, মূল্যায়ন কঠোর হয়েছে, খাতা যথাযথভাবে দেখা হয়েছে। এসব যুক্তির মধ্যে কিছু সত্য থাকতে পারে। কিন্তু কঠোর পরীক্ষা নেওয়া আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়।
পরীক্ষার মান বাড়ানো অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু তার আগে নিশ্চিত করতে হবে, শিক্ষার্থীকে সেই মানের পরীক্ষার উপযোগী শিক্ষা দেওয়া হয়েছে কি না। যে শিক্ষার্থীকে সারা বছর যথাযথ পাঠদান দেওয়া হয়নি, তাকে পরীক্ষার হলে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি করে ব্যর্থতার দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত হতে পারে না।
অন্যদিকে, বছরের পর বছর পাসের হার বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতাও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। ফলাফল ভালো দেখানোর জন্য যদি মূল্যায়নের মান শিথিল করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আনন্দিত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং আমাদের দরকার না অকারণে পাসের হার বাড়ানো, না শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার মধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নের কৃত্রিম সাফল্য খোঁজা। আমাদের দরকার এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থী যথাযথ শিক্ষা পাবে এবং তার অর্জন যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে।
আমরা প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি। কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য রাষ্ট্র কী করেছে, সেই প্রশ্নটি খুব কমই তুলি। একজন শিক্ষার্থী যখন এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করে, তখন তার সামনে শুধু একটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা থাকে না। তার সামনে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনিশ্চয়তা, পরিবারের হতাশা, সামাজিক অপমান, বন্ধুদের সঙ্গে দূরত্ব এবং নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে গভীর সংশয়।
আমাদের সমাজে পরীক্ষার ফলাফলকে মেধার চূড়ান্ত সনদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে পাস করে সে মেধাবী, যে ফেল করে সে অযোগ্য—এই সরলীকৃত ধারণা শিক্ষার্থীর মনোজগতে ভয়াবহ চাপ তৈরি করে। অথচ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই জীবনে অযোগ্য হয়ে যাওয়া নয়। মানুষের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতা একটি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না।

এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে, ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় সুযোগ তৈরি করা। তাদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, দুর্বল বিষয়গুলোতে বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার ওপর দাঁড়িয়ে শিক্ষা প্রশাসনের সাফল্যের গল্প লেখা যাবে না।
এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে আমাদের আত্মসমালোচনা জরুরি। বোর্ডভিত্তিক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হয়েছে, কোন অঞ্চলে ফল বিপর্যয় বেশি, কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্যর্থতার হার বেশি—এসব তথ্যের ভিত্তিতে কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমাতে হবে। একজন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী যেন কেবল তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে না পড়ে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন মানে কেবল পরীক্ষার ফল ভালো করা নয়। শিক্ষা মানে জ্ঞান, বিবেক, মানবিকতা, যুক্তিবোধ ও জীবনকে বুঝতে শেখা। একটি ভালো ফলাফল একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এই মৌলিক সত্যটি আমরা যত দিন না বুঝব, তত দিন পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আমাদের উচ্ছ্বাস ও হতাশার দোলাচল চলতেই থাকবে।
ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে—এই তথ্যকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? ছয় লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেনি, নাকি ছয় লাখ শিক্ষার্থীর কাছে আমরা যথাযথ শিক্ষা পৌঁছে দিতে পারিনি?
এই দুটি প্রশ্নের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। প্রথম প্রশ্নটি শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে, দ্বিতীয় প্রশ্নটি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।
আমার বিবেচনায়, এবারের এইচএসসি ফলাফলকে সেই দ্বিতীয় প্রশ্নের আলোকে দেখা জরুরি।
একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ জনগোষ্ঠী। অথচ সেই তরুণদের একটি বড় অংশ যখন শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরে এসে হোঁচট খায়, তখন রাষ্ট্রের আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ থাকে না। শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করলেন, বোর্ডগুলো পরিসংখ্যান প্রকাশ করল, পত্রপত্রিকায় ফল বিপর্যয়ের খবর ছাপা হলো—তারপর সবকিছু আগের মতো চলতে থাকল, এমনটি হলে এই বিপর্যয় থেকে আমাদের কোনো শিক্ষা নেওয়া হবে না।

আমরা কি একবারও ভেবে দেখব, এই ছয় লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের পেছনে কতগুলো স্বপ্ন ছিল? কত বাবা-মা তাঁদের সামর্থ্যের শেষ সম্বলটুকু সন্তানের শিক্ষার পেছনে ব্যয় করেছেন? কত শিক্ষার্থী দারিদ্র্য, প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল?
একটি শিক্ষাব্যবস্থা যদি তার শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান না করে কেবল ব্যর্থতার সংখ্যা প্রকাশ করে দায়িত্ব শেষ করে, তাহলে সেই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
শিক্ষা কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয়, পরীক্ষার ফলাফল কোনো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নয়, আর শিক্ষার্থী কোনো পরিসংখ্যানের উপাদান নয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি পরীক্ষায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী ফেল করেনি শুধু; আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে জমে থাকা অসংখ্য দুর্বলতা, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা আজ প্রকাশ্যে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো প্রয়োজন। কারণ শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের ব্যর্থতার জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)






