চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাখী দাশ পুরকায়স্থ: একজন আলোকবর্তিকা

আপনাকে নিয়ে দু'কলম লেখা শুরু করতে আমার কয়েকদিন লেগে গেল। আমরা শোকে মুহ্যমান। কিছুই মাথায় স্থির করতে পারছি না। প্রিয় কেউ হারিয়ে গেলে এমনটা হয়। যদিও আমি পারিবারিকভাবে এতোটাই ব্যস্ত যে সামান্যতম সময় কোন রকম বের করা কঠিন। শুনছি কয়েকদিন ধরেই রাখি দি অসুস্থ। দেখতে যাওয়ার কথা আমার পক্ষে ভাবনাতেই আনা দায়। একদিন বিকেলে একটু তন্দ্রা মতো এসেছি। স্বপ্ন দেখে ধরফর করে উঠেছি। মনে হলো এখনই যাব দিদিকে দেখতে। হলো না। পরের দিন আদিত্যকে সাথে নিয়ে বের হচ্ছি। পঙ্কজদার ফোন এলো। পঙ্কজ দা আদিত্যকে জানালেন 'তোমার সাথে লাইলাও নিশ্চয় আসছে, বৌদি…

বাঙালি নারীর পোশাক ও শালীনতা

ছোটবেলায় প্রবাদ শুনেছিলাম- “আপ রুচি খানা, পর রুচি পরনা”। একজন পূর্ণবয়স্ক নারী যেমন মন চাইবে তেমন পোশাক সে পরতে পারে। তার যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পোশাক পরার স্বাধীনতা অবশ্যই আছে। তা যেন হয় শালীন পোশাক। মনে রাখতে হবে আমরা বাঙালি। আদর্শ নারীদের অনুসরণ করেও আমরা পোশাক নির্বাচন করতে পারি। আবার ছাত্রী বা কর্মব্যস্ত নারী পোশাক পরবে তাদের সুবিধামত। আমার মা বা শাশুড়ি যখন সালোয়ার কামিজ পরছেন তা আমার ভালো লাগছে না। আবার আমি নিজেই তা পারছি। আমার বোন যখন স্লিভলেস জামা পরে ও গলায় ওড়না পেচিয়ে চলছে তা ভালো লাগছে না। আবার আরেক বোন যখন মাথায়…

বর্ষবরণে বাঙালির উৎসব যে কারণে পৃৃথিবীতে বিরল

“মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা” আজ পহেলা বৈশাখ। নববর্ষের প্রথম দিন। নতুন করে নতুন রঙে নতুনের আগমনী বার্তা জানান দিতে পুরনো সব গ্লানি মুছে নতুন একটি বছরকে বরনের শুভ দিন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেয়ার দিন। সর্ববৃহৎ আনন্দময় উৎসব। গ্রাম বাংলার ঘর, মাঠ, প্রান্তর পেরিয়ে এই উৎসব আজ প্রাণের স্পন্দন তুলছে প্রতিটি বাঙালির মনে। ঢাকা বৈশাখ উদযাপনের প্রধান কেন্দ্র্র। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে চৈত্র সংক্রান্তি থেকে শুরু করে পহেলা বৈশাখের সারাদিন রাত মানুষের…

বিজ্ঞাপন

বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ও বর্তমান

“মেয়েদের এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়া তুলিতে হইবে যাহাতে তাহারা ভবিষ্যৎ জীবনে আদর্শ গৃহিনী, আদর্শ জননী এবং আদর্শ নারীরূপে পরিচিত হইতে পারে।” ঊনবিংশ শতকে এই মানসিকতা বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন মুসলিম নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া। তিনি একজন দূরদর্শী সমাজ চিন্তক, সুসাহিত্যিক এবং নিভৃতচারি সুদূরপ্রসারী রাজনীতিক। মেধা-মনন এবং সুচিন্তিত মনোভাবের স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। নিজেই নিজের নেতা হয়ে কাজ করে গেছেন। ভাই ও স্বামীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন মুক্তমনে চিন্তা করার সাহস ও সহযোগিতা। বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর…

বাল্য বিবাহ: বয়সের পেছনে লেজ কেন ঝুলবে?

ছেলে বা মেয়ে পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পূর্বে যে বিয়ে সম্পন্ন হয় তাকে বাল্য বিবাহ বলে। যখন থেকে সভ্য সমাজে বিবাহ রীতি শুরু হয় তখন নির্দিষ্ট তেমন কোন বয়সের সীমারেখা ছিল না। কিন্তু দেশ, জাতি, সমাজের উন্নয়নের সাথে সাথে নারী পুরুষের উন্নয়ন জড়িত। তাই অল্প বয়সে বিয়ে হলে শিশু, বালিকা বা কিশোরী সংসার নিয়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যায়। দেখা যায় ক্রমাগত সে পিছাতে থাকে। সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনে আইন তৈরী হতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ সময়ে বাল্য বিবাহ আইন ১৯২৯ প্রণয়ন হয়। এই আইন বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যত কোনো…

আমার যদি একটা বড় ভাই থাকত!

মেয়েরা ছোট থেকে একটু একটু করে বড় হতে থাকে, চলার পথে সমস্যা ও জটিলতার সম্মুখীন হতে থাকে। কোনোটা সমাধান হয় আবার কোনটা নিরবে নিভৃতে একটি গ্লানি হয়ে রয়ে যায়। হাজার পেরিয়ে লক্ষ লক্ষ মেয়ের জীবনে যুক্ত হয় নানা রকমের গ্লানি, কষ্টের অধ্যায়। তার ক’জনার খবর আমরা জানি। যারা পারিবারিকভাবে প্রভাবশালী তারা কিছুটা সমস্যা সমাধান করে বা জীবনের পুরনো ক্ষত মুছতে পারলেও অন্যদের জন্য তা বেশ কঠিন। যেসব মেয়েদের বড় ভাই বা বাবার জোর থাকে না, তাদের মনে হয় 'যদি আমার একটা বড় ভাই থাকত !' পারিবারিক শক্তিটাই মেয়ের চলার পথকে সহজ করে। এক সময় ভাবতে…

বিজ্ঞাপন

সিডও সনদ ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার আজ থেকে ৩০ বছর আগে ১৯৮৪ সালে সিডও সনদের অনুমোদনকারী রাষ্ট্রসমূহের একটি হিসেবে স্বাক্ষর করে। নারীর প্রতি বিদ্যমান সকল প্রকার বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড, রীতিনীতি, প্রথা ও চর্চা নিষিদ্ধকরণ এবং নারীর প্রতি বৈষম্য প্রদানকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে নিয়ে আসা জরুরী। সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেশের এবং জনসাধারণের কল্যাণার্থে সিডও সনদ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরী।সিডও সনদের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে বাংলাদেশ মহিলা…

রিশা হত্যাকাণ্ড: এভাবে আর কতো হারাবো আমরা

বাংলাদেশ উন্নয়নের গতিতে হেঁটে নয়, দৌড়ে চলছে। নারীর সফলতা, শিক্ষা, উন্নয়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুভ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছি আমরা। আমরা আশাবাদী, আনন্দিত। এদেশের আনাচে কানাচে, শহর থেকে শহরে, রাজধানীর অলি গলিতে নারী আধুনিকতার ছোঁয়ায় আচ্ছন্ন। নারীর নিজের উদ্যোম ও আগ্রহ পরিবার ও সামাজিক জীবনকে করেছে গতিশীল। আমরা পত্রিকা খুললেই নারীর কাজে, প্রতিভায়, চেতনার অগ্রগতি দেখি। চোখের কোনে আনন্দাশ্রু ভাসে। দুদিন আগেও পত্রিকায় দেখলাম ৯টি জেলার জেলা প্রশাসক নারী।আবার পত্রিকার পাতা খুললেই দেশের কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতনের দৃশ্য দেখি।…

আমার কাছে নূরজাহান বেগম

ঢাকা শহরে আমাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ হয়নি। কুষ্টিয়া জেলা শহরে জন্ম নিয়েছি, সেখানেই বেড়ে ওঠা। দাদা বাড়ী প্রত্যন্ত গ্রামে। বতর্মানের রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানায়। ছোটবেলায় ঘন ঘন যেতাম। সেখানে আজও বিদ্যুৎ এর আলো পৌঁছেনি। মুসলিম সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারের চল অনুযায়ী সে বাড়ীতে ব্রিটিশ আমল থেকে কলকাতা ও ঢাকার অনেক বই পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা আসতো। তার মধ্যে আসতো 'বেগম' পত্রিকাও। পত্রিকার পাঠক ছিলেন আমার বড় চাচীআম্মা উম্মে সালমা শামছুন্নাহার। তিনি লেখালেখিতে বিশেষ অভ্যস্থ না হলেও ভীষণ পড়ুয়া মানুষ। ছোটবেলায় সাধারণ জ্ঞানের বই পড়তে যেয়ে…