সাভারে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টা, প্রাইভেট কার ভাঙচুর

মো. শামীম হোসেন: সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় গভীর রাতে একটি আঞ্চলিক সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এসময় রামদা হাতে ডাকাতদের বাধা উপেক্ষা করে একটি প্রাইভেট কার দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে গাড়িটির ওপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। তবে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
আজ (২৪ জানুয়ারি) শনিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের রাজাশন–বিরুলিয়া সড়কের কালিয়াকৈর বড়ঢাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রাইভেট কারের ড্যাশ ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধারণ হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার শিকার প্রাইভেট কারে থাকা বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মাহমুদুল হাসান আলালের ছেলে ফয়সাল মাহমুদ অর্ণব জানান, ওই রাতে তারা সাভারের কর্ণপাড়া এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে আকরাইনে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। কালিয়াকৈর বড়ঢাল এলাকায় পৌঁছালে তারা সড়কের পাশে একটি ট্যাংকার লরি ও একটি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। এসময় মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি রামদা হাতে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে।
অর্ণব বলেন, পরিস্থিতি বুঝে গাড়ির গতি কমিয়ে দ্রুত দরজা ও জানালা লক করে ডাকাতদের পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তখন দেখা যায়, সড়কের ওপর গাছ ফেলে পথ আটকে রাখা হয়েছে। চালক ঝুঁকি নিয়ে গাছের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। এসময় ডাকাতরা পেছন দিক থেকে গাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা ও পেছনের অংশ ভাঙচুর করে। তবে তারা কোনো মালামাল লুট করতে পারেনি।
এই বিষয়ে সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমীন জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরত্বে পুলিশের টহল চলছিল। হঠাৎ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে দেখে পুলিশ সেখানে গিয়ে সড়কে গাছের ডাল ফেলে যানবাহন আটকে রাখার ঘটনা দেখতে পায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে একটি ট্রাকসহ আরও দুটি গাড়ি আটকে ছিল। তাৎক্ষণিক পুলিশি তৎপরতার কারণে কোনো যানবাহন থেকে ডাকাতি করতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজন ডাকাত এ ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজাশন–বিরুলিয়া সড়কে রাত হলেই ডাকাতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত সড়কটিতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেকেই বিকল্প পথ ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়লেও তা দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় অপরাধীরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।






