রিয়াদে হামলা: সৌদি যুবরাজের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প

U.S. President Donald Trump meets with Saudi Deputy Crown Prince and Minister of Defense Mohammed bin Salman in the Oval Office of the White House in Washington, U.S., March 14, 2017. REUTERS/Kevin Lamarque – RTX30ZWC
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার পর সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে সামরিক হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তিনি।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার বিমানবন্দরে চালানো হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন। এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে।
হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাবে এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে ছোড়া একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে রিয়াদে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়। রোববার ভোরে রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করার কথা জানায় জোট।
ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরদিন ১৫৫টি আগমনী ও ১৬১টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ২২২টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে বিলম্ব ঘটে।
হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ হামলায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।






