পোর্তোতে পুলিশের অভিযানে ৩৭ জন আহত, আবাসন সংকট নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা পর্তুগালে

পর্তুগালে আবাসন সংকট ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী বাসস্থানের অভাব এবং আবাসনের অধিকারের দাবিতে চলা আন্দোলনে পোর্তোতে পুলিশের অভিযানের পর আহত হয়েছেন কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা, বলপ্রয়োগের মাত্রা এবং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গত ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভোরে পোর্তোর কেন্দ্রীয় প্রাসা ডি. জোয়াও প্রথম চত্বরে তাবু স্থাপন করে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের সরাতে অভিযান চালায় পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ পিএসপি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের অভিযানে অন্তত ৩৭ জন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজনের হাড় ভেঙে যায়। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তাবু সরানোর নির্দেশ অমান্য করা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার পরিস্থিতিতে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
সিএনএন পর্তুগালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশের (পিএসপি) ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট এবং ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পুলিশ অফিসার্সের সভাপতি ব্রুনো পেরেইরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের মধ্যে যে ধরনের মিল এবং একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তার মতে, এসব বিক্ষোভের সবগুলো শান্তিপূর্ণ থাকছে না।
এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে পর্তুগালের ক্রমবর্ধমান আবাসন সমস্যা। বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম বৃদ্ধি, সীমিত সাশ্রয়ী বাসস্থান এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। আন্দোলনকারীরা আরও সরকারি আবাসন, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং বাসস্থানের ব্যয় কমানোর দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, পোর্তোর ঘটনার পর লিসবনেও নতুন বিক্ষোভের কর্মসূচির কথা সামনে এসেছে। ফলে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় এবং অন্যান্য শহরে আন্দোলন বিস্তৃত হয় কি না, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এসব বিক্ষোভকে ইউরোপজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসীদেরও উচিত বিক্ষোভের এলাকায় সতর্ক থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা।






