ইনফ্লুয়েন্সার প্রেমিকার ফ্ল্যাট থেকে পড়ে মৃত্যু, ময়নাতদন্তে ভয়াবহ তথ্য

ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে ক্যাফে মালিক শিব শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিকা মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার শ্রদ্ধা দুবের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ তুলেছেন শিবের মা রঞ্জনা শর্মা।
গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের হজরতগঞ্জ এলাকায় প্রেমিকা শ্রদ্ধার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে নিচে পড়ে যান শিব। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শুরুতে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, শিবের মায়ের অভিযোগ এবং ময়নাতদন্তের বিভিন্ন তথ্য সামনে আসার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়।
শিবের মা রঞ্জনা শর্মার অভিযোগ, শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালে তার ছেলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন। ছেলের শরীরে একাধিকবার আঘাতের চিহ্ন দেখলেও শিব এ বিষয়ে কথা বলতে চাইতেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
রঞ্জনার ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের মরদেহ দেখার সময় তার পাঁজর, কাঁধ, হাত ও উরুতে সিগারেটের ছ্যাঁকাসহ একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। এসব চিহ্ন দেখে মৃত্যুর আগে তার ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করেন রঞ্জনা।
তার আরও অভিযোগ, শ্রদ্ধা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত একজন ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি শিবকে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন এবং অতীতের একটি মামলার কথা বলে তাকে ভয় দেখাতেন। এমনকি বিয়ের বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার পরও শ্রদ্ধার আচরণ বদলে যায় বলে দাবি করেছেন শিবের মা।
রঞ্জনা আরও জানান, একবার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে এসেছিলেন শিব। সে সময় শ্রদ্ধা তাকে বারবার ফোন করেন এবং ফিরে না গেলে চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পরনে শুধু অন্তর্বাস ছিল। মুখে লিপস্টিক এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেকআপের চিহ্ন ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফ্ল্যাট থেকে সেক্স টয় ও যৌন উদ্দীপক ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শিবের মায়ের অভিযোগ, শ্রদ্ধাই তাকে ফোন করে জানান যে শিব তার ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে পড়ে গেছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে আবার ফোন করলে শ্রদ্ধার গাড়িচালক শিবকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন বলে জানানো হয়।
হাসপাতালে পৌঁছে রঞ্জনা সেখানে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান, যার সঙ্গে শ্রদ্ধার গাড়িচালক ছিলেন বলে তার দাবি। ছেলের কী হয়েছিল জানতে চাইলে ওই চালক কিছু জানেন না বলে জানান এবং মরদেহ সেখানে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন রঞ্জনা।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শিবের শরীরে ১১ ধরনের বাহ্যিক আঘাতের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবের দুই ফুসফুসে ছিঁড়ে যাওয়ার ক্ষত, যকৃৎ ও প্লীহায় আঘাত, শরীরের ভেতরে ব্যাপক রক্তক্ষরণ এবং ডান দিকের পেলভিক হাড়ে ভাঙন ছিল। এসব আঘাতের কারণে সৃষ্ট শক ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকেরা।
শিবের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রদ্ধা দুবে, তার বোন, গাড়িচালকসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আবাসিক ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, শিব ও শ্রদ্ধার মধ্যকার কথোপকথন এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বলিউড শাদি






