দিনাজপুরে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগে আন্তঃজেলা জালিয়াতি-প্রতারক চক্রের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এসময় তাদের কাছ থেকে কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের ৬টি এডমিট কার্ড, ১০০ টাকা মূল্যমানের ৯টি ননজুডিসিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪টি ফাঁকা চেক, ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের ৬ পরীক্ষার্থী, একজন ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী ও প্রতারক চক্রের মূলহোতা পজিরুল ইসলামসহ ৫ জন আন্তঃজেলা জালিয়াতি-প্রতারক চক্রের সদস্য রয়েছে।
তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার শিংপাড়া গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে পজিরুল ইসলাম (৪৩), একই উপজেলার সালান্দর কচুবাড়ী গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে মো. রকুনুজ্জামান (৩০), জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম রিপন (৩৫), একই গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে মহসিন আলম (৩৫), দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার ধর্মপুর কৈকুড়ি গ্রামের মো. ফিরোজ আলীর ছেলে মো. আব্দুল কুদ্দুস (৩৮), নীলফামারী সদর উপজেলার বেড়াভাঙ্গা রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মিশকাতুল ইসলাম (২৩), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার হেলেঞ্চার সালটিপাড়া গ্রামের মো. নাজমুন হকের ছেলে নাহিদ ইউসুফ (১৮), একই উপজেলার সালটিপাড়া গ্রামের বাটুল সরকারের ছেলে শাহরিয়ার সরকার (১৮), ফুলচৌকি গ্রামের মো. রুহুল আমিনের ছেলে মো. রাজা মিয়া (১৮), রংপুর কোতয়ালী থানাধীন দক্ষিণ হরিদাতপুর এলাকার মো.করিমুল ইসলামের ছেলে মো. মিস্টার রহমান(১৮), গঙ্গাচরা থানাধীন দশভাইপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে মো. মোহাইমেনুল (১৮) ও কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানাধীন রামধন গ্রামের মোকসেদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (১৮)।
পুলিশ সুপার আরও জানান, বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগে দিনাজপুর জেলায় ১১-১৩ ফেব্রুয়ারি শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে প্রায় ৪ হাজার প্রার্থী অংশ নেয়। পরে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ১৭ জন নারী সদস্যসহ ১১৪ জন পুলিশ কনেস্টবল পদে নিয়োগে সু্যোগ পেয়েছেন।
কিন্তু আন্তঃজেলা জালিয়াতি-প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যরা কৌশলে লিখিত পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থী শহিদুল ইসলামের পরিবর্তে ভুয়া প্রক্সি প্রার্থী মো. তারেক রহমান দিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়ে। এ ঘটনায় তারেক রহমানের স্বীকারোক্তি মতে প্রকৃত পরীক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম ও আন্তঃজেলা জালিয়াতি-প্রতারক চক্রের মুলহোতা পজিরুল ও মো. মহসিন সহ ৪ জনের নামে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়। এর আগে নাঈম উদ্দীন নামে এক প্রার্থীর নিয়োগে প্রতারণাকালে ৩০ জানুয়ারি দিনাজপুর শহরের আল রশীদ নামে এক আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেপ্তারের পর কোতয়ালী থানায় আরেকটি মামলা দায়ের হয়।
পুলিশ এই দুই মামলার সূত্র ধরে আন্তঃজেলা জালিয়াতি-প্রতারক চক্রের হোতা ও সদস্যদের ধরতে চিরুনি অভিযান চালায়। বুধবার ( ২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরে আবাসিক হোটেল আমজাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৮ জন ও তাদের স্বীকারোক্তি মতো আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, এই প্রতারক চক্র অত্যন্ত সক্রিয় ধুরন্ধর। তারা চাকরিপ্রার্থীর ছবির সঙ্গে ভুয়া পক্সি প্রার্থীর ছবি কম্পিউটারে এডিট করে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতেন। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পরে লিখিত পরীক্ষায় অন্য ভুয়া পরীক্ষার্থী দিয়ে প্রক্সি দেয়াতো।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোমিনুল করীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ মো. জিন্নাহ আল-মামুন, গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি) পরিদর্শক ফারুকুল ইসলাম, কোতয়ালী থানা পরিদর্শক তানভিরুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।








