ইরানের হামলার জেরে উত্তর ইরাকে এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন সেনাসদস্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, গত শনিবার (১৮ জুলাই) এই ঘটনা ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে ওই সেনা নিহত হন। আহত অপর সেনাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সেন্টকম আরও জানিয়েছে, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের হামলার শিকার মার্কিন ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলার অভিযোগ করে আসছে। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের কয়েকটি বন্দরের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এই পরিস্থিতিতে টানা নবম রাতের মতো ইরানে নতুন দফার হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের দাবি, সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে শুরু হওয়া অভিযানের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের জবাব দেওয়া।
জর্ডানে হামলার ঘটনার যাচাইকৃত ভিডিওতে অন্তত দুটি আঘাত ও একটি বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত নিহত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে। চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করার পর এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।






