৭৪ বছরের বৃদ্ধ হয়ে দেশে ফিরলেন ২৩ বছরের যুবক

সীমান্ত সড়কের মাপজোখ করতে করতে ভুলবশত ভারতীয় ভূখন্ডে ঢুকে পড়েছিলেন চীনা নাগরিক ওয়াং কি। গ্রেফতার হন ভারতীয় বাহিনীর হাতে। ১৯৬৩ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর ভারতেই থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
পরবাসে অবস্থানের দীর্ঘ ৫৪ বছর পর অবশেষে ওয়াং কি নিজ দেশে ফিরতে পেরেছেন। এখন তার বয়স ৭৭ বছর।
ভারতে আটকাবস্থায় থাকা ওয়াং কি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর চীনের কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান ওয়াং কি।
অবশেষে ৫৪ বছর পর ভারতে এই চীনা কূটনীতিকের সাহায্যে বাড়ি ফিরেছেন ওয়াং কি। গতকাল শুক্রবার তিনি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লী থেকে বিমানযোগে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যদের দেখা পেয়েছেন। এখন তিনি নিজ শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন।
ওয়াং কি’র আকুতিতে সাড়া দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ভারত ছাড়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করে। বিমানে ওঠার আগে চীনা কর্মকর্তারা দিল্লীর একটি শপিং মলের বাইরে থেকে ওয়াং ও তার পরিবারকে গ্রহণ করে।
তিনি ভারতীয় এক নারীকে বিয়ে করেছেন। তবে তিনি স্বামীর সঙ্গে চীনে না গিয়ে ভারতেই থেকে যান।

ওয়াং কি জানান, তিনি ১৯৬৩ সালে চীনা সেনাবাহিনীর জন্য সীমান্তে সড়কের মাপজোখ করতে গিয়ে ভুলে ভারতীয় ভূখন্ডে ঢুকে পড়েন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য তা বিশ্বাস করেনি। আটকের পর প্রায় সাত বছর কারাগারে কাটে তার।
১৯৬৯ সালে জামিন পান। পুলিশ তাকে নিয়ে মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রামে রেখে আসে। সেই থেকে ওয়াং কি’কে ভারত ছাড়তে দেয়া হয়নি। ভারতীয় নাগরিকত্ব বা বসবাসের কোনো অনুমতিও তাকে দেয়া হয়নি।
তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, হয়তো ‘কিছু ঘাটতি’ অথবা ‘আগ্রহের অভাবে’ চীনে ফেরা হয়নি কি’র। চীনা দূতাবাস ২০১৩ সালে ওয়াং কি’কে একটা পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। সরকারি কাজের ধীরগতি ওয়াং কি’র যন্ত্রণাময় প্রতীক্ষার সময়ই কেবল বাড়িয়েছে।

ওয়াং কি আর ভারতে ফিরে আসবেন কি-না সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।





