এশিয়ান গেমসে কেমন খেলল বাংলাদেশ?

এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর আয়োজিত হয়েছে জাপানের আইচি নাগোয়াতে। ১৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর ৪ অক্টোবর আসরের পর্দা নেমেছে। আসরে বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগে বাংলাদেশ থেকে মোট ১৮৭ জন খেলোয়াড় ও অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেন। তবে আসর মোটেও সুখকর হয়নি বাংলাদেশের জন্য। ২২টি ডিসিপ্লিনে সব প্রতিযোগিতা মিলে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক এসেছে বাংলাদেশের ঝুলিতে, আর খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।
জাপানে হওয়া আসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করা ২২টি ইভেন্ট হল- আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফুটবল, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, হকি, জুডো, কাবাডি, কারাতে, শ্যুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বীচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি এবং উশু।
বাংলাদেশের একমাত্র পদক আসা ইভেন্টটি হল উশু। জিন্নাত আক্তার ৫২ কেজি ওজন শ্রেণীতে (ফাইট ইভেন্টে) ইন্দোনেশিয়ার থারিসা দেয়া ফ্লোরেন্তিনা ডিসকোয়ালিফায়েড হওয়ার সুবাদে সেমিফাইনালে ওঠেন। পরে সেমিফাইনালে হারলেও পদক নিশ্চিত হয় তার। বাংলাদেশের সাফল্য বলতে এই একটি পদকই। রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের হাত থেকে পেয়েছেন সংবর্ধনাও।
ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই পর্যন্ত গিয়েছিল ছেলে ও মেয়েদের দল, হেরেছে দুটি দলই। ফুটবলে ছেলেদের দল অংশগ্রহণ করেনি, মেয়েদের দল গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে। হকিতে ছেলে এবং মেয়ে দুটি দল অংশগ্রহণ করেছিল। ছেলেদের দল আসরে সপ্তম এবং মেয়েদের দল নবম স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে। তিন ইভেন্টে বাংলাদেশ কোনো পদক জেতেনি।
আইচি-নাগোয়া ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পদক জয়ের সম্ভাবনা ছিল আর্চারি ইভেন্টকে ঘিরে, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো পদক ছাড়াই খালি হাতে হতাশাজনকভাবে মিশন শেষ করেছে দেশের আর্চাররা। রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড কোনো বিভাগেই বাংলাদেশের কেউ কোয়ার্টার ফাইনালের (সেরা আট) বৈতরণী পার হতে পারেননি।
অ্যাথলেটিকস থেকে পদক আশা করার পালে হাওয়া দেয়া ম্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান এশিয়ান গেমসে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর হতাশা লুকিয়ে রাখেননি বাংলাদেশের দ্রুততম মানব। ব্যর্থতা পেছনে ফেলে কীভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, এখন সেই ভাবনাতেই মনোযোগ দিতে চান।
পদকের আশা থাকা কাবাডি দলও কোনো সাফল্য আনতে পারেননি। ছেলে ও মেয়েদের দল মিলিয়ে সর্বমোট ২টি ম্যাচ জিতেছে। দুটি জয়ই এসেছে ছেলেদের দলের হাত ধরে, যেখানে মেয়েদের দল কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। জাপানের কাছে এক পয়েন্টের পর ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ছেলে ও মেয়েদের টেবিল টেনিস, বীচ ভলিবল, সুইমিং ও ভারোত্তোলন ইভেন্টে বাংলাদেশ মোট ১টি ম্যাচ জিতেছে। এই চারটি ডিসিপ্লিনের কোনোটিতেই বাংলাদেশ পদকের ধারে কাছেও যেতে পারেনি এবং গ্রুপপর্ব বা প্রাথমিক রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। বাংলাদেশের রাকেশ ও রাতুল জুটি মালদ্বীপের জুটিকে ২-১ সেটে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে। এটি এশিয়ান গেমসের বীচ ভলিবলে বাংলাদেশের প্রথম জয়। কারাতে ইভেন্টের হুমায়রা আক্তার ছিলেন এবারের আসরে বাংলাদেশের পতাকাবাহক।
ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে প্রথমবার অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। পাঁচটি আলাদা ক্যাটাগরিতে লড়েছেন ৫ জন। ছেলেদের ডাবলসে রাউন্ড অব বত্রিশে জিতে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিলেন গৌরব সিংহ ও আয়মান ইবনে জামান। ছেলে মেয়ে মিলে প্রথমবার একটি ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য।
বক্সিং, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, সাইক্লিং ও কুস্তি ইভেন্টগুলোতে শুধু বাংলাদেশ ছেলেরা অংশগ্রহণ করেছিল। এই পাঁচটি ডিসিপ্লিনে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। প্রথম রাউন্ড বা বাছাই পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন। এছাড়া ছেলে ও মেয়েদের জুডো, কারাতে, শ্যুটিং এবং সার্ফিং ইভেন্টেও বাংলাদেশ জিততে পারেনি এবং কোনো পদক ছাড়াই আসর শেষ করেছে।






