দেশের ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা অববাহিকায় যেসব নদী, সেগুলোর পানি বেড়ে ১৯৮৮ সালের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। ইতিমধ্যে ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদী ও হাওরের পানি বেড়ে বন্যায় দেশের ১০ জেলার অনেক অঞ্চল তলিয়ে গেছে। সাধারণত গঙ্গা অববাহিকায় আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও নেপালে বন্যা হয়। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ে। আবার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় জুলাই-আগস্টে বন্যা হয়। আর মেঘনা অববাহিকায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কারণ ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অংশে পানি বাড়ার হার গড়ে ৫০ সেন্টিমিটার। এরইমধ্যে চিলমারি, বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ব্রহ্মপুত্রের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে গত বছর রেকর্ড করা পানির সর্বোচ্চ বিপদসীমা অাগামী তিন দিনে অতিক্রম করে পরবর্তী ৭-৮ দিন প্রবাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসবের সঙ্গে আগামী ২৩ আগস্ট অমাবস্যার সময় উচ্চ মাত্রার জোয়ারের চাপ থাকবে চাঁদপুর মেঘনা অংশে। সব মিলিয়ে দেশে মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। কিছুদিন আগেই হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যা ও পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধসের ধকল সইতে হয়েছে জাতিকে। এবার এই বন্যা দেশের শস্যভাণ্ডার তথা উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাতে যে ক্ষতি করছে, তা শঙ্কার। দুর্যোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সক্ষমতা যে অনেক বেড়েছে তাতে সন্দেহ নেই। তারপরও দুর্যোগ ও দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নেবার অভাব দেখা যায়। যেমনটি আমরা দেখতে পেয়েছিলাম হাওরের আগাম বন্যা ও পার্বত্য এলাকার পাহাড় ধসের সময়। যা নিয়ে গণমাধ্যমসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আলোচনা ও সমালোচনা আমরা দেখতে পেয়েছি। কাজেই এখন ৮৮ সালের মতো একটি বন্যা হলে আমাদের দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি কেমন আছে, তা দ্রুত ভেবে ও বিষয়ের গুরুত্বানুসারে ব্যবস্থা নেবার আহ্বান জানাচ্ছি।









