পড়াশোনা শেষ না করেই বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছিলেন মার্ক জাকারবার্গ। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক গড়ার অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৩ বছর পর সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জন করলেন তিনি।
তাকে ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি দিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সম্মানসূচক এই ডিগ্রি নিতে বাবা-মাকে নিয়ে জাকারবার্গ হাজির হয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।
মাত্র ৩৩ বছর বয়সী এই বিলিয়নিয়ার ডিগ্রি প্রাপ্তির ভাষণে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনদের দেয়া ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, প্রেম এবং ফেসবুক গড়ার পুরোনো কথাগুলো তুলে ধরেন আবেগ ভরা কণ্ঠে।
নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা এবং সেই কাজে নানা রকম বাধা কাটিয়ে লক্ষ্যে অটল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা প্রথমেই নিজের পরিবারের কথা স্মরণ করে বলেন,“মা, আমি সব সময়ই বলতাম আবার হার্ভার্ডে আসবো এবং ডিগ্রিটা পাবোই।”

ফেসবুক নিজের দীর্ঘ দিনের অধ্যাবসায়ের ফলাফল জানিয়ে জাকারবার্গ অনুজদের বলেন,‘দারুণ কিছু একটা করার জন্য লেগে থাকুন।’
বর্তমান প্রজন্ম এবং পারিপার্শ্বিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সিস্টেমেই কিছু সমস্যা আছে। আমি ১০ বছরেই বিলিয়নিয়ার হয়েছি। কিন্তু এখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী আছে যারা নিজেদের পড়াশোনার ঋণগুলোই ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারে না। ব্যবসা শুরু করা তো বহু দূরের ব্যাপার। বর্তমানে আমরা খুব অস্থির একটা সময় পার করছি।’
“বিশ্বায়নের দৌঁড়ে কিছু মানুষ পিছিয়ে যাচ্ছে, কিছু বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছে। একদিকে আছে স্বাধীনতা, উন্মুক্ততা ও গ্লোবাল কমিউনিটিগুলো, অন্যদিকে আছে স্বৈরতন্ত্র, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ। যারা জ্ঞান, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও অভিবাসনের বিরুদ্ধে তারাই সবকিছুর গতি কমিয়ে দিতে চায়। এই লড়াইটা দেশভিত্তিক নয় বরং চিন্তা ভিত্তিক। শুধু জিডিপি দিয়ে উন্নয়ন মাপলে হবে না বরং আমাদের উচিৎ অর্থবহন করে এমন কিছু করা।’’
মার্ক জাকারবার্গের ফেসবুক প্রোফাইলে দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০০৪ সাল পর্যন্ত হার্ভার্ডের ছাত্র ছিলেন তিনি।









