চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

স্পেনের রাজত্ব, মেসির কান্না আর চমকের বিশ্বকাপ শেষ হলো যেভাবে

আব্দুল্লাহ আল সাফি আব্দুল্লাহ আল সাফি
৩:২৭ অপরাহ্ণ ২০, জুলাই ২০২৬
- সেমি লিড, ফুটবল, স্পোর্টস
A A

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তখন অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ, ঘড়িতে ১০৬ মিনিট। বদলি নামা নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়ালেন আরেক বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস। ঠিক এই এক মুহূর্তে স্পেন হয়ে গেল ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ট্রফি বিতরণীতে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো এবং দুই সহ-আয়োজক দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর নেতারা।

এই এক গোলেই যেন গোটা বিশ্বকাপের গল্প ধরা পড়ে। পুরনো তারকা, নতুন মুখ, অঘটন, রেকর্ড, সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়ে থাকল ভরপুর এক আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় ১১ জুন শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, প্রথমবার ৪৮ দল, ১০৪টি ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ট্রফি গেল স্পেনের ঘরে, তবে সেই পথে ছিল অনেক চমক, অনেক পতন আর অনেক নতুন নাম।

এই আসর থেকেই প্রথমবার চালু হলো নতুন ফরম্যাট। ৪৮ দলকে ভাগ করা হয় ১২টি গ্রুপে, প্রতি গ্রুপে চারটি করে দল। প্রতি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দলের সঙ্গে যোগ হয় সেরা আট তৃতীয় স্থানের দল, তৈরি হয় নতুন এক রাউন্ড অব বত্রিশ। তার পর যথারীতি শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল আর ফাইনাল।

ফাইনালে যা ঘটল

ফাইনালে পুরো ম্যাচ জুড়ে দাপট ছিল স্পেনের। ধৈর্য ধরে বল দখলে রেখে খেলার যে স্টাইলে তারা পুরো আসর পার করেছে, ফাইনালেও সেই একই ছবি দেখা যায়। ২০টি শট নিলেও আর্জেন্টিনা নিতে পারে মোটে দুটি, প্রথম শটটাই আসে ১১৭ মিনিটে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মেসির সবচেয়ে ভালো সুযোগ আসে, হুলিয়ান আলভারেজের পাস পেয়েও স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমনকে ফাঁকি দিতে পারেননি তিনি। মাঝপথে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল বাতিল হয় ফাউলের কারণে।

নিয়মিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফের্নান্দেজ, যা আর্জেন্টিনাকে দশজনের দলে পরিণত করে আরও চাপে ফেলে দেয়। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একাই লড়ে গেছেন, ১০টি সেভ করে গড়েন পুরুষদের বিশ্বকাপ ফাইনালের রেকর্ড, তবু হার এড়াতে পারেননি। বেশ কয়েকটি হলুদ কার্ড আর একজোড়া লাল কার্ড (একটি আসে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে) ফাইনালের সৌন্দর্য কমিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র সেকেন্ড কয়েক পরই আসে ফেরান তোরেসের সেই জয়সূচক গোল। ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানও বলছিল একই কথা, স্পেনের প্রত্যাশিত গোল বা এক্সজি ছিল ১.৯৪, আর্জেন্টিনার মাত্র ০.২০। এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকে স্পেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের ৩৫ ম্যাচের পর যা তাদের দ্বিতীয় সেরা।

Reneta

লিওনেল মেসির জন্য এটাই ছিল শেষ বিশ্বকাপ। ৩৯ বছর বয়সে রানার্স-আপ হয়েই থামল তার বিশ্বকাপ অধ্যায়। ম্যাচ শেষে রানার্স-আপের পদক নেওয়ার সময় কান্না লুকাতে পারেননি তিনি, এই বিশ্বকাপের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য। তবু হারের পরও তিনি হয়ে যান কাফুর পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেললেন।

ফাইনালের বিরতিতে ছিল জমকালো এক সংগীত আয়োজনও, যেখানে গান পরিবেশন করেন শাকিরা, কোলডপ্লের ক্রিস মার্টিন, বিটিএস ও জাস্টিন বিবারের মতো তারকারা।

আর্জেন্টিনার কষ্টের যাত্রা

চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আসা আর্জেন্টিনার পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ছিল নাটক আর সমালোচনা। শেষ ষোলোয় অভিষিক্ত কেপ ভার্দেকে হারাতে তাদের লেগে যায় অতিরিক্ত সময়, ১১১ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেডে জয় আসে। এর পরের রাউন্ডে মিসরও তাদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জেতে তারা।

সেমিফাইনালেও প্রথমে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে উঠতে চলেছে তারা, কিন্তু শেষ দিকে দুই গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা, দুটি গোলেই যোগানদাতা ছিলেন মেসি নিজে। জয়ের পর মাঠে একটি সাদা ব্যানার তুলে ধরেন দলের এক খেলোয়াড়, যাতে লেখা ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি রাজনৈতিক বার্তা, যা নিয়ে পরে বিতর্ক তৈরি হয়।

শেষ পর্যন্ত ফাইনালে এসে সব ফুরিয়ে যায়, মলিন এক পারফরম্যান্সে হেরে যায় তারা, যেখানে পুরো ম্যাচে একটিও উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়তে পারেনি দলটি।

পুরস্কারের রাত

টুর্নামেন্ট শেষে ফিফার ঘোষিত পুরস্কারগুলোও চমক জাগানো। ফাইনালের আগ পর্যন্ত গোল্ডেন বলের প্রধান দাবিদার ভাবা হচ্ছিল মেসিকেই, কিন্তু আর্জেন্টিনার হার আর ফাইনালে তার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটা পাঠিয়ে দেয় স্পেনের রদ্রির ঘরে। সেরা খেলোয়াড়ের এই পুরস্কার গোল্ডেন বল ওঠে রদ্রির হাতে, মেসিকে (রুপা) ও এমবাপ্পেকে (ব্রোঞ্জ) পেছনে ফেলে।

গোল্ডেন বুট বা সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, ১০ গোল নিয়ে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেই এই সংখ্যায় পৌঁছান তিনি, ফাইনালে গোলশূন্য থাকা মেসিকে (৮ গোল) পেছনে ফেলে। চূড়ান্ত তালিকায় এর পর আছেন জুড বেলিংহাম ও আর্লিং হালান্ড (৭ গোল করে), হ্যারি কেইন ও উসমান ডেম্বেলে (৬ গোল করে)। চার বছর আগে ২০২২ বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে।

গোল্ডেন গ্লাভ বা সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পান স্পেনের উনাই সিমন, সাত ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করে।

আর সবচেয়ে বড় চমক সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারে। টুর্নামেন্ট জুড়ে সবাই ধরে নিয়েছিল এই পুরস্কার পাবেন লামিনে ইয়ামাল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ওঠে তার বার্সেলোনা সতীর্থ পাউ কুবার্সির হাতে, যিনি কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১০৩ পাসের ১০১টিই নিখুঁত রাখার মতো পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো আসরে ছিলেন ধারাবাহিক। এর আগে ২০২২ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার এনজো ফের্নান্দেজ, ২০১৮ সালে জিতেছিলেন এমবাপ্পে নিজে।

উঠতি ও আলোচিত তারকা যারা

কুবার্সি ছাড়াও এই আসর অনেক নতুন নাম এনে দিয়েছে। ইয়ামাল চোট কাটিয়ে ফিরে পুরো আসরে আলো ছড়িয়েছেন, ১৮ বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপে গোল করা মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়ে পেলের পাশে বসেছেন তিনি। ইউরোপ থেকে সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি বেঞ্চ থেকে নেমে বারবার ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন, আর ফ্রান্সের দেজিরে দুয়েও ছিলেন তরুণ খেলোয়াড় পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার।

আফ্রিকা থেকে আলজেরিয়ার ইব্রাহিম মাজা গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি সফল ড্রিবল করেছেন, পেছনে ফেলেছেন ইয়ামালকেও, আর মরক্কোর আইয়ুব বোয়াদি ও আইভরি কোস্টের ইয়ান দিওমান্দেও নজর কেড়েছেন।

ল্যাটিন আমেরিকা থেকে মেক্সিকোর গিলবের্তো মোরা ছিলেন গোটা আসরের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়, মাত্র ১৭ বছর, আর ইকুয়েডরের কেন্দ্রি পায়েসও ছিলেন দলের নিয়মিত মুখ। এশিয়া থেকে উজবেকিস্তানের আব্বোসবেক ফাইজুল্লায়েভ প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠেই নিজেকে চিনিয়েছেন।

কেপ ভার্দের ৪০ পেরোনো গোলরক্ষক ভোজিনহাও ছিলেন আলোচনায়, স্পেনের বিপক্ষে ২৭টি শট সামলে হয়েছিলেন সেরা খেলোয়াড়। দিনো জফ ও পিটার শিলটনের পর ৪০ বা তার বেশি বয়সে বিশ্বকাপে একাধিক ক্লিন শিট রাখা মাত্র তৃতীয় গোলরক্ষক তিনি।

বড় দলের পতন আর চমক-অঘটনের বিশ্বকাপ

এবারের সবচেয়ে বড় অস্বস্তি ছিল স্বাগতিকদের নিয়ে। তিন আয়োজক দেশের একটিও শেষ ষোলো পার হতে পারেনি, কানাডা হারে মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলে, মেক্সিকো ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে আর যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা ব্রাজিলের। শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই হারের পরই ব্রাজিলের হয়ে অবসরের কথা জানান নেইমার। জার্মানিও ফিরে গেছে আগেভাগে, শেষ বত্রিশে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে। প্যারাগুয়ে অবশ্য পরের রাউন্ডে ফ্রান্সের কাছে হেরে থামে, এমবাপ্পের পেনাল্টিতে। নেদারল্যান্ডস হেরেছে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও থামে শেষ ষোলোয়, স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে, যেখানেই শেষ হয় রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়।

৪৮ দলের ফরম্যাট ছোট দলগুলোকে বড় মঞ্চ দিয়েছে, আর তারা সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। অভিষেকেই সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশটি গ্রুপ পর্বে স্পেনকে ০-০ গোলে আটকে দেয়, উরুগুয়ের সঙ্গেও করে ২-২ ড্র। র‍্যাঙ্কিংয়ের বিচারে এত নিচের কোনো দল আগে কখনো বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠেনি। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে বিদায় নেয় তারা, তবে গোটা টুর্নামেন্টেই দর্শকদের মন জিতে নেয় তাদের লড়াই।

নরওয়ের গল্পটাও আলাদা করে বলার মতো। আর্লিং হালান্ডের দলটি আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে হারিয়ে ওঠে কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে থামে তারা। হালান্ড নিজে মাত্র চার ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেন, অভিষেক বিশ্বকাপে যা সর্বোচ্চ, ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের গ্রেগর্শ লাতোর পর।

মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে ২০২২ শুধু ব্যতিক্রম ছিল না, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ওঠে শেষ আটে। মিসর টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় গিয়ে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হারার আগে। গ্রুপ পর্বেও অঘটন কম হয়নি। অনেকের ডার্ক হর্স তুরস্ক অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে শুরু করে, শেষমেশ ৬২টি শট নিয়েও গোলশূন্য থেকে বিদায় নেয়। প্রথম বিশ্বকাপ খেলা স্কটল্যান্ডের দৌড়ও গ্রুপ পর্বেই শেষ।

গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে ইতিহাস গড়ে মিসরও। ১৯৩৪ সালের বাছাইপর্বের নকআউট বাদ দিলে এই প্রথম গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে ওঠে তারা। তাদেরই গ্রুপে থাকা ইরান অবশ্য পারেনি, বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠার নজির নেই দলটির।

রেকর্ডের বড় খাতা

এবারের বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছে সর্বকালের গোলদাতার তালিকাও। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে পৌঁছান ২২ গোলে, ছাড়িয়ে যান মেসিকে, পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। একই ম্যাচে ফ্রান্সের মিকায়েল ওলিস তার দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করে ৭ অ্যাসিস্ট নিয়ে ছাড়িয়ে যান পেলেকে, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন তার। এমবাপ্পে ফ্রান্সের হয়েও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করা সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন গ্যারি লিনেকারকে পেছনে ফেলে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা, ১৪ গোল নিয়ে সর্বকালের তালিকায় গার্ড মুলারের পাশে যৌথভাবে পঞ্চম। জুড বেলিংহামের ৭ গোল এক আসরে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবাল করেছেন ৫ গোল, যা স্পেনের হয়ে যৌথ সর্বোচ্চ। ইয়ামাল ও কুবার্সি মিলে গড়েছেন আরেক রেকর্ড, ১৯৫৮ সালে পেলে ও আলতাফিনির পর প্রথম কিশোর জুটি হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ শুরু করেছেন তারা।

দলগত রেকর্ডও কম নয়। স্পেন গ্রুপ পর্বে একটিও গোল হজম করেনি, তাদের ইতিহাসে প্রথম। টানা তৃতীয় আসরে নকআউটে ওঠা স্পেন গত সাত বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই নিজেদের গ্রুপে হয়েছে শীর্ষ। মেক্সিকো গ্রুপের তিন ম্যাচ জিতেছে কোনো গোল না খেয়ে, ১৯৯০ সালে ইতালির পর স্বাগতিক দল হিসেবে দ্বিতীয়বার এই কীর্তি। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম সেমিফাইনালে নেমেছিলেন নিজের ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচে, কোনো কোচের সর্বোচ্চ, যদিও ফ্রান্সের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। আর ৪৮ দল ও ১০৪ ম্যাচ নিয়ে এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যা গোলের হাট বসিয়ে অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে ‘সুপারস্টারদের বিশ্বকাপ’।

শেষ কথা

স্পেন হয়ে গেল প্রথম দেশ যারা একই সময়ে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। মেসির শেষ বিশ্বকাপ শেষ হলো কান্না দিয়ে, এমবাপ্পে হলেন সর্বকালের সেরা গোলদাতা, আর কুবার্সির মতো নতুন মুখ দেখিয়ে দিলেন ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল। কেপ ভার্দে থেকে মরক্কো, ইব্রাহিম মাজা থেকে গিলবের্তো মোরা, ছোট দল আর নতুন খেলোয়াড়দের এই লড়াই মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে বড় নাম সব সময় শেষ কথা বলে না। বড় হয়ে ওঠা এই ৪৮ দলের বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত বড় নামের চেয়ে বড় গল্পই বেশি দিয়ে গেল।

পরের বিশ্বকাপ বসবে ২০৩০ সালে, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর মাটিতে, শতবর্ষ উপলক্ষে কয়েকটি ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও। ততদিনে হয়তো মেসির জায়গা নেবেন কোনো নতুন তারকা, হয়তো ইয়ামাল কিংবা কুবার্সিই হয়ে উঠবেন সেই মুখ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ মনে থাকবে অন্য কারণে, প্রথম ৪৮ দলের আসর, প্রথমবার একসঙ্গে তিন দেশের আয়োজন, আর একই সঙ্গে এক কিংবদন্তির বিদায় ও নতুন এক প্রজন্মের শুরুর গল্প হিসেবে।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: প্লেবুকফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬বিশ্বকাপ ফাইনালবিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোলিওনেল মেসিলিড ২০২৬
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

হস্তশিল্প খাতের উন্নয়নে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও বাংলাক্রাফটের সমঝোতা স্মারক সই

জুলাই ২১, ২০২৬

বিশ্বকাপ তারকা ওলিসেকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ সাবেক প্রেমিকার

জুলাই ২১, ২০২৬

দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে শেখ হাসিনাকে: আসিফ নজরুল

জুলাই ২১, ২০২৬

২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ বাড়ল ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা

জুলাই ২১, ২০২৬

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার ঘোষণা জোবাইদা রহমানের

জুলাই ২১, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2026 Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT