শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নেয়ার পর শুরু থেকেই শক্তভাবে হাল ধরছেন কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। দলের মাঝে নানা রকম পরিবর্তন আনছেন। কোন গাফিলতি সহ্য না করার হুমকি দিয়ে অনুশীলনে মিউজিকও নিষিদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ম্যানেজমেন্টকেও। দল ও একাদশ নির্বাচনে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ চেয়েছেন স্পষ্টভাবেই।
সাবেক বিশ্বকাপজয়ী দলটি নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ একটি বছর শেষ করতে যাচ্ছে। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে মোট ৫৭ ম্যাচের ৪০টিতেই হেরেছে। জয় মাত্র ১৪টিতে। তাই হাথুরুসিংহে বলছেন, শৃঙ্খলার ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর হবেন তিনি। সঙ্গে ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হবেন।
কড়াকড়ি দেখে গণমাধ্যমকর্মীরা খোঁচা দিতেও ছাড়ছেন না। অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়রা কি মিউজিক শুনতে পারবেন? এমন প্রশ্নও ছুটে গেছে হাথুরুর দিকে। জবাবও মিলেছে তার চেনা ঢংয়েই, ‘কেউ যদি অনুশীলনের সময় গান শুনতে চায়, ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি চলে যেতে পারে।’
চলতি বছরের জুনে শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী দায়াসিরি জয়াসেকারা বলেছিলেন, দলের অনেক খেলোয়াড় ‘এতই মোটা’ যে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য ফিট নন। এরপর ডায়েটের জন্য দলে স্পেশাল কোর্স চালু করা হয়। সবশেষ ভারত সফরের টি-টুয়েন্টি দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা কিছু সময়ের জন্য আটকেও দিয়েছিলেন জয়াসেকারা।
এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দল নির্বাচনে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ চান হাথুরুসিংহে। যদিও যেকোনো দলের প্রধান কোচ দল নির্বাচকদের ক্ষেত্রে অটোমেকি সদস্য না।
চাহিদাপত্রে হাথুরু বলেছেন, ‘মূল একাদশ নির্বাচন করতে আমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব প্রয়োজন। ক্রীড়া আইন অনুযায়ী কোচকে দল নির্বাচনে জড়িত করা যাবে না। তবে কোচ হওয়ার সময় তারা (বোর্ড কর্মকর্তা) নির্বাচক হওয়ার জন্য করা আমার অনুরোধ বিবেচনা করছে।’
আগামী ১৩ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে শ্রীলঙ্কা দল। টাইগারদের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয়ার পর দুটি টেস্ট এবং দুটি টি-টুয়েন্টি খেলবে দলটি। এই সিরিজের আগে ভারতের কাছে রীতিমত নাকানিচুবানি খেয়েছে লঙ্কানরা। সেই অবস্থা থেকে দলকে উদ্ধার করাই নতুন কোচ হাথুরুসিংহের প্রধান চ্যালেঞ্জ।







