পাহাড়ী ঢল ও বন্যায় দুর্গত হাওর অঞ্চল নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। রোববার বিকেলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে খালেদা জিয়ার বিবৃতি দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হাওর অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।প্রতিবেশী দেশ থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট আগাম বন্যায় ব্যাপক শস্যহানিসহ গবাদি পশু, মাছ, জলজ প্রাণী এবং অন্যান্য সম্পদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতিতে সহায়-সম্বল হারিয়ে সেখানে এক অকল্পনীয় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, রোগে-শোকে, খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে হাওরের মানুষ এক অবর্ণনীয় দুর্দশায় জীবন কাটাচ্ছে। তাদের কষ্ট বর্ণনা অতীত। বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি’র মহাসচিবের নেতৃত্বে সেখানে এক প্রতিনিধিদল পাঠাই। তাঁরা সেখানে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহস যুগিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন। বিএনপি প্রতিনিধিদল হাওর অঞ্চলে বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির যে ভয়াবহ চিত্র দেখেছেন তার আলোকেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে ‘দুর্গত অঞ্চল’ ঘোষণার আহ্বান জানাই। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক বিবেচনা থেকেই এ আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকেও একই দাবি উত্থাপন করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় ক্ষমতাসীনরা এ দাবি প্রত্যাখান করেন। আরো দু:খের বিষয় হচ্ছে, তাদেরকে তুষ্ট করার জন্য একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে বলেন যে, কোনো এলাকার অন্ততপক্ষে অর্ধেক সংখ্যক লোকের দুর্যোগে মৃত্যু না হলে সে এলাকাকে ‘দুর্গত অঞ্চল’ ঘোষণার নিয়ম নেই। আমরা আরো দু:খের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, প্রতিবেশী দেশের সীমান্তবর্তী খনি থেকে ইউরেনিয়াম মিশ্রিত পানির দূষণে জলজপ্রাণীর মৃত্যুর ব্যাপারে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরকে একসময় ক্ষমতাসীনদের কাছে ত্রাণ তৎপরতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষের চরম দুর্যোগ ও দুর্ভোগের সময়ে এ নিয়ে তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের খবরে সকলে কিছুটা আশান্বিত হয়েছিলেন উল্লেখ করে ওই এলাকাকে ‘দুর্গত অঞ্চল’ ঘোষণা না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া। বিবৃতিতে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণে হাওর অঞ্চলকে আগামী ছয় মাসের জন্য ‘দুর্গত অঞ্চল’ ঘোষণা এবং সেই মোতাবেক আন্তরিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরর জন্য জোর দাবি জানান তিনি।
হাওর অঞ্চলে যে মানবিক বিপর্যয়ের জন্য প্রাকৃতিক বিরূপতার পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের অপকর্ম, দুর্নীতি ও ব্যর্থতাকে দায়ি করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরো দাবি করেন, নতুন ফসল না আসা পর্যন্ত হাওরের ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি কৃষিঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ এবং সরকারি-বেসরকারি সকল প্রকার ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও বিনা সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়া, এক বছরের জন্য জলমহালের ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহের সুযোগ দেয়া, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া, হাওরের শস্য, মৎস্যসম্পদ, গবাদিপশু ও অন্যান্য জলজপ্রাণীর যে বিপুল হানি ঘটেছে তা আমাদের জন্য এক জাতীয় বিপর্যয়ের শামিল মন্তব্য করে এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়াও দলমত নির্বিশেষে যার যা সামর্থ্য তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।










