চোখের সামনে ভাই দেখছিলেন পতঙ্গর মতো আগুনে পুড়ে যাচ্ছে বোন। যতক্ষণে পানি এনে ঢালেন, দেরি হয়ে যায়। চুলার আগুনে পুড়ে যায় গোল্ড মেডেলিস্ট শুটার সৈয়দা সাদিয়া সুলতানার বুকের এক পাশ। মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে হয়েছিল। নতুন সংসারে থিতু হওয়ার আগেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটের (এইচডিই) কেবিনে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
সোমবার হাসপাতালে গেলে সাদিয়ার বড় ভাই সৈয়দ সাজ্জাদ উল্লাহ জানান, এখন শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ভর্তি করানোর পর জানতে পারেন আগুনের তাপ লেগেছে শ্বাস নালিতেও। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সোমবার রাতে অথবা মঙ্গলবার সার্জারি করা হতে পারে।
সাজ্জাদ উল্লাহ বর্ণনা করছিলেন সেদিনের রোমহর্ষক ঘটনা, আমাদের বাড়ি এসে দুপুরের খাবার গরম করতে গিয়ে ওড়নায় আগুন লেগে যায়। ডান পামের বুক, গলা, মুখের ডান পাশ পুড়ে গেছে। নিচের দিকে কতটা নামছে আমি খেয়াল করতে পারিনি। যখন আগুন নিভানো হয়, লজ্জার কারণে অন্যদিকে ঘুরে ছিল। পেছন থেকে যতটুকু দেখেছি মেরুদণ্ডের চামড়াও ধরেছে। সবমিলিয়ে ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

বেশ কয়েকটি টেস্ট করতে দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যা নাগাদ পাওয়া যাবে। তা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সার্জারির দরকার পড়বে কিনা।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরই এসেছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। করে গেছেন আর্থিক সহায়তা। সাদিয়ার ভাই জানালেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন গুরুত্ব দিয়েই দেখছে সবকিছু। ছেলের বউয়ের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর শুনে শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সাদিয়ার স্বামী শাহীনুর ইসলাম রাসেল সাদিয়ার সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে স্বর্ণজয় করেন সাদিয়া। একই বছর দিল্লিতে কমনওয়েলথ শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বৈত ইভেন্টে স্বর্ণ জয় করে সাদিয়া-রত্না জুটি। ২০১০ সালে দিল্লি কমনওয়েলথ গেমস শুটিংয়ে সাদিয়া ছিলেন ষষ্ঠ স্থানে। নারীদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ব্যক্তিগত ইভেন্টে এটিই ছিল দেশের সেরা সাফল্য।
২০১৩’র বাংলাদেশ গেমসের পর শুটিংয়ের বাইরে সাদিয়া। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল তিনি অসুস্থ। চার বছর পর আবার যখন সংবাদের শিরোনামে আসলেন, তখন জানা গেল চট্টগ্রাম রাইফেলস ক্লাবের সঙ্গে স্পন্সরশীপ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে শুটিংই ছেড়ে দেন!










