প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার আশ্বাসের পরে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তাদের অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। তবে কর্মসূচি পুরোপুরি প্রত্যাহার না করে শিক্ষক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি আশ্বাস চান তারা। তার মানে আবার যেকোনো সময় তারা অনশনে যেতে পারেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অনশন কর্মসূচিতে কয়েক হাজার শিক্ষক অংশ নিয়েছিল। শীতের রাতেও শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান করেন। তিনদিনের অনশনে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে তারা জানুয়ারিতে বই উৎসব বর্জনেরও হুমকি দিয়েছে। বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিতে ১১তম গ্রেডে বেতন চান। একটি উন্নত দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার ভূমিকা, গুরুত্ব এবং তার প্রমাণ লিখে শেষ করা যাবে না। যে জাতি বা দেশের শিক্ষার অবকাঠামো ও শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ যত উন্নত, দেশ ও জাতি হিসেবে সার্বিকভাবে তারাই উন্নত ও স্বয়ংসম্পন্ন। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকরা আজ কেন নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে মনে করছেন? তাছাড়া জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষকদের এভাবে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামরত অবস্থায় দেখা মোটেও অশোভন নয়, কয়েক কোটি শিশুর শিক্ষার দায়িত্বে সরাসরি নিয়োজিত এসব শিক্ষকদের দাবির ন্যায্যতা যাচাই করা জরুরি বলে আমরা মনে করি। বছরের পর বছর আমাদের বাজেটের আকার বড় হচ্ছে, অবকাঠামো উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার পাশাপাশি শিক্ষা খাতে আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষকদের প্রতি এই বৈষম্য দূর করা দরকার সবার আগে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষকদের এই বেতন বৈষম্য শিশুদের শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।









