প্রথমে বল হাতে শফিউল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতে রকিবুল হাসানের অসাধারণ ব্যাটিং। দুজনের যুগলবন্দিতে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অসাধারণ এক জয় পেয়েছে মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব। বিকেএসপির তিননম্বর মাঠে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে তিন উইকেটে হারিয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
শনিবার টস হেরে ব্যাটে নেমে শফিউলের বোলিং তোপে চার ওভারের বেশি বাকি থাকতে ১৮২ রানে অলআউট হয় গাজী। জবাবে ২৮ বল হাতে রেখে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় মোহামেডান।
২০০’র নিচে লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথমে বিপদে পড়ে মোহামেডানও। ৪৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কাই জাগছিল। অভিষেক মিশ্রা ২৪ ও আব্দুল মাজিদ ১৩ রান করে ফেরার পর শূন্য হাতে আউট হন গত আসরে রেকর্ড পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকানো মোহাম্মদ আশরাফুল। এক বলের বেশি ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি।
আশরাফুলের পর শূন্য রানে আউট হন ইরফান শুক্কুরও। এক রান করে নাদিফ চৌধুরী রানআউট হয়ে ফিরলে ৫১ রানেই পাঁচ উইকেট চলে যায় মোহামেডানের। ৮৭ রানের মাথায় বিপুল শর্মা আউট হলে হারের আশঙ্কায় পড়ে দল।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন চার নম্বরে নামা রকিবুল হাসান ও সোহাগ গাজী। ৪৯ রানে জুটি গড়ে আউট হন গাজী। তার আগে ২৯ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলেন তিনি।
সোহাগ গাজীর সঙ্গ পেয়ে আসল কাজটা করেন রকিবুল হাসান। দলীয় সর্বোচ্চ ৮২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মোহামেডান অধিনায়ক। ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস। শেষদিকে ১৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে অধিনায়ককে দারুণ সাহায্য করেন আলাউদ্দিন বাবু।
গাজীর হয়ে রুয়েল মিয়া ও কামরুল ইসলাম রাব্বি দুটি করে উইকেট নেন। রায়হান উদ্দিন নেন একটি উইকেট।
এর আগে বোলিংয়ে প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই শফিউল পেয়ে যান সাফল্য। পরের ওভারের প্রথম দুই বলে তুলে নেন টানা উইকেট। উৎসবে যোগ নেন আলাউদ্দিন বাবুও। পরে আবার দুই উইকেট নেন শফিউল। শফিউল এক স্পেলে ৫ উইকেট শিকার করে বিধ্বস্ত করেন গাজী গ্রুপকে।
গাজীর প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের কেউই পাননি দুই অঙ্কের দেখা। ওপেনার মেহেদী হাসানকে (১) এলবিডব্লিউ করে উইকেট শিকারের উৎসব শুরু করেন শফিউল। এক বল বাদেই নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে রনি তালুকদারকে (০) উইকেটের পেছনে ইরফান শুক্কুরের হাতে ক্যাচ বানান এ পেসার।
পরের বলে শামসুর রহমান শুভকে (০) করেন বোল্ড। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগানো শফিউল চার বলের ব্যবধানে নেন তিন উইকেট।
অপর প্রান্ত থেকে আলাউদ্দিন বাবু ফেরান গাজীর অধিনায়ক ইমরুল কায়েসকে (৭)। প্রথম তিন উইকেট শিকার করা শফিউল আবার আঘাত হানেন নিজের চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারে।
রায়হান উদ্দিনকে (২) উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানানোর পর এ পেসার নিজের পঞ্চম শিকারের দেখা পান ভারতীয় রিক্রুট পারভেজ রসূলকে (৬) একইভাবে আউট করে।







