কৃষি

লবণাক্ততা সমস্যা সমাধা‌নে বা‌জে‌টে বি‌শেষ বরাদ্দ

লবণাক্ততা সমস্যা সমাধা‌নে বা‌জে‌টে বি‌শেষ বরাদ্দ

দক্ষিণ বঙ্গের কৃষিতে বড় সমস্যা লবণাক্ততা কমাতে আসছে বাজেটে বরাদ্দ থাকতে পারে। এমন আশার কথা শুনিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।

চ্যানেল আইয়ের উদ্যোগে ‘কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট’ আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

খুলনা জেলার ফুলতলা থানার শতবর্ষী দামোদর মুক্তময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ‌ছি‌লো ‘কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট’ আলোচনার তৃতীয় আয়োজন। উপস্থিত ছিলেন খুলনা ও আশপাশের জেলার কয়েক হাজার কৃষক, বর্গা চাষী, পোল্ট্রি খামারি ও মৎস্যজীবিরা।

আ‌লোচনায় বলা হয়, আইলা ও সিডর পরবর্তী সময়ে খুলনা অঞ্চলের বড় সমস্যা এখন লবণাক্ততা। তার ওপর দীর্ঘকাল খাল খননে সরকারি সংস্থাগুলোর কোনো নজর নেই।

উপস্থিত একজন কৃষক বলেন, অচিরেই যদি এই লবণাক্ততা প্রতিরোধ করার না যায় তাহলে বিল ডাকাতিয়ায় লবণাক্ততার বিষে ফলন শেষ হয়ে যাবে।

মৎস্যজীবি, পোল্ট্রি খামারি এবং ডেইরি খামারিরা আলোচনায় তাদের নানা সমস্যার কথা তু‌লে ধ‌রেন। কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের বেড়াজালে কৃষকের নাকানি চুবানির কথা উঠে আসে অনুষ্ঠানে।

একজন কৃষক বলেন, আড়াই লাখ টাকার ঋণ নিতে তা‌কে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। বর্গা চাষীরা যাতে আরো সহজে ঋণ পেতে পারেন সেই আহবান জানান তি‌নি।

কৃষকের সমস্যাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরে তা সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ কর‌তে চ্যা‌নেল আইয়ের ‘হৃদ‌য়ে মা‌টি ও মানুষ’ গত ১১ বছর ধ‌রে জাত‌ীয় বা‌জে‌টের আগে এ আলোচনার আয়োজন ক‌রে আস‌ছে।

আয়োজ‌নের প্রেক্ষাপট তু‌লে ধ‌রে চ্যা‌নেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কৃ‌ষি ঋণ দি‌তে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে চাপ দি‌চ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকগু‌লো তা দিচ্ছে, কিন্তু এনজিওদের মাধ্যমে। কারণ আঞ্চলিক পর্যায়ে বেসরকা‌রি ব্যাংকগু‌লোর কোনো অবকাঠামো নেই। যে

এর ফ‌লে, তি‌নি ব‌লেন, যে কৃষক আসলে ঋণ পাওয়ার যোগ্য তি‌নি না পেয়ে ঋণ পাচ্ছেন এনজিওর সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা কর‌তে গি‌য়ে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি কৃষকদেরও আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।

তিনি বলেন, আমাদের কৃষকদের আইডি কার্ড আছে। কার আইডি কার্ড আছে, কে কতোটুকু জমি চাষ করছেন এবং কতোটুকু জমিতে ধান চাষ কর‌বেন, এটা যদি তারা নিশ্চিত করতে পারেন; তাহলে সহ‌জেই সব হিসাব ক‌রে সরকা‌রি পর্যায় থে‌কে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হ‌বে।

আয়োজ‌নের শুরুতেই বিস্তারিত তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী আদিত্য শাহীন।

প্রতিবারের মতো এবারও কৃষকের সমস্যা সমাধানের প্রস্তাবগুলো সম‌ন্বিত করে তুলে দেওয়া হবে অর্থমন্ত্রীর হাতে।

(আ‌য়োজন‌টির বিস্তা‌রিত দেখা যা‌বে আজ চ্যা‌নেল আইয়ের রাত ৯টার সংবা‌দের পর ‘হৃদ‌য়ে মা‌টি ও মানুষ’ অনুষ্ঠা‌নে।)


বিষয়:কৃষকের বাজেট কৃষি বাজেট

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…