সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত রোহিঙ্গা পরিস্থিতির মতো মানবিক ইস্যুতে ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে সমর্থন করবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে ১৪ দল।
শনিবার ধানমণ্ডি ৩/এ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি বলে: রোহিঙ্গা ইস্যু বর্তমান সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখছে। এ ইস্যুতে সরকারের নেওয়া সকল পদক্ষেপ ১৪ দল সমর্থন করে।
তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে একমত হয়ে ভারতসহ বিশ্ব সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে চলমান রোহিঙ্গা নির্যাতনকে গণহত্যা বলে দাবি করা হয়। বলা হয়, রাখাইনে চলমান মানবতা বিরোধী যে হত্যাযজ্ঞ চলছে দ্রুত সময়ে মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সোচ্চার হবে।
দেরিতে হলেও জাতিসংঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিবৃতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয় সভা থেকে।
বিএনপি-জামায়াত জোট রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে তার সমালোচনা করে নাসিম বলেন: রোহিঙ্গার মতো মানবিক বিষয়কে রাজনৈতিক ইস্যু করবেন না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বর্তমান সরকারের সকল পদক্ষেপ রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন করা উচিত মন্তব্য তিনি।
জিয়ার শাসন আমলেই (১৯৭৮) প্রথম রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মোহাম্মদ নাসিম।
রাখাইনে গণহত্যা বন্ধে বাংলাদেশের বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস গুলোকে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান ১৪ দলের নেতারা।
তারা বলেন: আমাদের মতো জনবহুল দেশে রোহিঙ্গাদের মতো বাড়তি জনগোষ্ঠীর জায়গা দেওয়া অনেকটাই অসম্ভব। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা অনেকটা বাধা ছাড়াই প্রবেশ করতে দিয়েছি। তবে, অবস্থার উন্নতি হলেই তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
এজন্য তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়াসহ সকল নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক মহলকে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেওয়ায় আহ্বান জানান ১৪ দলের নেতারা।
গত ৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার সফরের শেষ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ‘চরমপন্থী সহিংসতায়’ ভারতও উদ্বিগ্ন। কিন্তু এসময় রোহিঙ্গা নিধন বিষয়ে কোন কথা বলেননি মোদি। রোহিঙ্গা নির্যাতন ইস্যুতে ব্যাপক সমালোচিত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। এর একদিনের মাথায় ইন্দোনেশিয়ায় এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ইয়াঙ্গুন বিরোধী ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকে ভারত।









