অপেক্ষার অবসান কাছাকাছি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মহারণের ফাইনাল মঞ্চ প্রস্তুত। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর্জেন্টিনার চতুর্থ, নাকি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ- জানা যাবে ৯০ মিনিট, কিংবা তারও বেশি সময়ের লড়াই শেষে। মাঠের লড়াইয়ের আগে দেখে নেয়া যাক দুদলের পরিসংখ্যানের খতিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় গড়াবে আর্জেন্টিনা-স্পেন লড়াই। দুদলের মুখোমুখি লড়াই মানেই উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর উচ্চমানের ফুটবল। দীর্ঘ সাত দশকের ইতিহাসে এ দুই দলের লড়াইয়ে কোন পক্ষই একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এপর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে তারা। এরমধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
দুদলের প্রথম সাক্ষাত হয় ১৯৫২ সালের ৭ ডিসেম্বর। স্পেনের মাটিতে হওয়া প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়ে যাত্রা শুরু করে আর্জেন্টিনা। এরপর বুয়েন্স আয়ার্সে হওয়া ফিরতি ম্যাচেও একই ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। শুরুর দিকের আরেকটি দেখাতেও জয় ছিল আর্জেন্টিনার ঝুলিতে।
স্পেন প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে হারায় ১৯৬১ সালের ১১ জুন। সেদিন ২-০ গোলের জয় দিয়ে লাতিন আমেরিকান শক্তির বিপক্ষে নিজেদের প্রথম সাফল্যের স্বাদ পায় স্প্যানিয়ার্ডরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুদলের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে বার্মিংহামের ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড এখনও ধরে রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা।
১৪ ম্যাচের মধ্যে ১৩টিই ছিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। সেখানে স্পেনের জয় ৬টি, আর্জেন্টিনার ৫টি এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক আসরের ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে, যেখানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
সাম্প্রতিক সময়েও দুদলের লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের মনে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১০ সালে সাউথ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেন যখন বুয়েন্স আয়ার্স সফরে যায়, ঘরের মাঠে তাদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা।
সেই হারের জবাব দেয় স্পেনও। ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত দুদলের সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে লিওনেল মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে স্পেন। সেই ম্যাচে স্পেনের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইসকো। ফলে দুদলের সবশেষ লড়াইয়ের স্মৃতি স্পেনের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি আর্জেন্টিনার জন্য তা এক তিক্ত অধ্যায় হয়ে আছে।







