ঠাকুরগাঁওয়ের পর এবার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে খোঁজ মিলল অবহেলিত এক মায়ের। প্রায় ১০ বছর ধরে এক জঙ্গলে ভাঙ্গা একটি ঘরে বসবাস করছেন এই মা।
বয়স নব্বইয়ের কোঠা পেরিয়েছে অনেক অাগেই। বহু কষ্টে হাঁটু দিয়ে চলাচল করেন। ঘুটঘুটে অন্ধকারে আশেপাশের সাপ-শেয়াল তার নিত্যসঙ্গী। একদিন এই মায়ের সব ছিল। স্বামী দুবরাজ হাজীর ধন সম্পদের সুনাম ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের নড়াই ইউনিয়নের বাঘমা গ্রামে এখনো মানুষের মুখে মুখে। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই কষ্ট নেমে আসে এই মায়ের জীবনে। দুঃখকে নিত্যসঙ্গী করে চলা এই মায়ের নাম সমলা।
এখন যে ঘরে এই বৃদ্ধার বাস, সেখানে পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানি নেই বললেই চলে। ভাঙ্গা পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানিই তার ভরসা। একবেলা খাবার জুটলেও আরেকবেলা না খেয়ে দিন কাটে। অসুস্থ হলেও খোঁজ নেবার নেই কেউ। প্রতিনিয়তই করে চলেছেন মৃত্যুর অপেক্ষা।
স্থানীয় সাংবাদিক ওমর ফারুক সুমনের তথ্যে জানা যায়, ব্যক্তিজীবনে চার সন্তানের জননী এই মায়ের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তবে দুই ছেলে বেঁচে না থাকায় মেয়েরাই তার শেষ ভরসা। তবে এই মেয়েরা মায়ের দেখাশোনা করে না।
রাতে বৃদ্ধ মায়ের কারণে ঘুমোতে কষ্ট হওয়ায় কন্যারা তার মাকে বাড়ির পেছনের জঙ্গলে থাকতে দিয়েছে। সেখানে বিদ্যুতের অালো না থাকায় অন্ধকারেই দিনপার করতে হচ্ছে সমলাকে।
বৃদ্ধার দুই মেয়ের নাম আকলিমা ও হালিমা। স্থানীয়রা জানান বছরের পর বছর সেখানে থেকে রোগে-শোকে জর্জরিত সমলা। বৃদ্ধার নুরুল হালিম নামের জামাতা কৌশলে বৃদ্ধার কাছ থেকে সকল সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই তারা আর দেখাশোনা করতে রাজি নন বৃদ্ধা মায়ের। দুই-মেয়ে ও তাদের জামাতারাই এখন ভোগ করছে সব সম্পত্তি। এমনকি বৃদ্ধা মায়ের বয়স্ক ভাতার টাকাটাও তুলে নেয় মেয়েরা।
তবে বৃদ্ধার মেয়ে আকলিমা সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, মায়ের ইচ্ছেতেই মা ওই জঙ্গলের ঘরটিতে থাকেন। মা সেখানেই থাকতে পছন্দ করেন। তবে প্রতিদিনিই সেখানে গিয়ে মা-কে খাবার ও পোশাক পালটে দিয়ে আসার দাবি করে সে। তাছাড়া মায়ের চিৎকারে রাতের বেলায় কেউ ঘুমোতে পারে না, এজন্য তাকে ওই ঘরে রাখা হয়েছে বলে জানায় আকলিমা।
আকলিমার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও কেনো মায়ের ওই ভাঙ্গা ঘরটিতে নেই, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি আকলিমা।
নির্যাতিত এই মায়ের খবর জানিয়ে ময়মনসিংহের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেনর সঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অতিসত্ত্বর সেখানে লোক পাঠিয়ে যাবতীয় খোঁজ-খবর নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিতা-মাতা বৃদ্ধ বয়সে যাতে সন্তানদের অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার না হন সে জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন রয়েছে দেশে, যা ২০১৩ পাস হয়। আইনটিতে সন্তানদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি অপরাধ, দন্ড ও বিচারব্যবস্থার বিষয়েও বিধান দিয়েছে।







