বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অনেক দায়িত্বপূর্ণ পদের মধ্যে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত পদ। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পদে যারা দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তারা সমাজে বিশেষ সম্মানে ভূষিত হয়ে থাকেন। দায়িত্ব পালন শেষেও তাদের দেখা হয়ে থাকে অনন্য দৃষ্টিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য’র কর্মকাণ্ড ওই সম্মানজনক পদকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের ঈদ বখশিশ দেয়া না দেয়া বিতর্কে প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ উঠেছে, পরিবারের সদস্যরা ওইসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জড়িত।
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন, এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে তার মুখের ভাষা ও উগ্র আচরণের কারণে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ১৪৪ ধারা জারি করার পরে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। বন্ধ ঘোষণাকে প্রত্যাখান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকলে তাদের উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে উপাচার্যের ভাড়া করা সন্ত্রাসী ও গুণ্ডাবাহিনী ওই হামলা করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান নানা কারণেই এখন আলোচিত- সমালোচিত৷ তার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, তিনি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সব ‘অপকর্মের’ আশ্রয় প্রশ্রয় দেন৷ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গত কয়েক বছরে ছাত্রলীগ যত হামলা চালিয়েছে সবই তিনি তদন্তের নামে ধামাচাপা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে আবার আলোচনায় এসেছে, ডাকসুতে নির্বাচিত কিছু ছাত্রনেতার ভর্তি জালিয়াতির বিষয়ের অভিযোগ।
এছাড়া রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কালিমুল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম ইমামুল হক, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম অহিদুজ্জামানসহ কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হয়েছেন নানা কর্মকাণ্ডে।
শিক্ষাবিদদের মতে, উপাচার্যদের কাজ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম কানুন মানা এবং সবাইকে মানানো৷ তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নৈতিক মান আশা করেন সবাই৷ কিন্তু নেতৃত্ব বা প্রজ্ঞার জায়গা থেকে তারা নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়ে বেশিরভাগই রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ পান, সেজন্য তারা একাডেমিক কার্যক্রমের চেয়ে ব্যবসা বাণিজ্য নয়তো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি জড়িত হয়ে পড়ছেন বলেও শিক্ষাবিদদের অভিমত।
উপরোক্ত সার্বিক কারণে উপাচার্য পদের কর্ম পরিধি ও তাদের নীতি নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার পরিবেশ খারাপ হওয়াসহ অস্থির হতে শুরু করেছে দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গন। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো ধরণের অবস্থানে না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিষয়গুলো খুবই উদ্বেগের বলে আমরা মনে করি।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কী কী বিষয় দেখবেন, কী করবেন কী করবেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অর্থ ও তা ব্যবহারের দায়িত্ব উপাচার্য’ই করবেন, নাকি দেশের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ দেখবেন, এসব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে আমরা মনে করি।










