পুলিশি বাধার মুখে বাম দলগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড হয়েছে। এসময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ৭-৮ জননেতাকর্মী অাহত হয়েছে বলে দাবি করছে দলগুলো।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ-প্রতক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মীরা ব্যাংক ও অার্থিক প্রতিষ্ঠানে চুরি, দুর্নীতি লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
এরপর বেলা ১২টার দিকে তারা বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাত্রা করে। মিছিলটি পল্টন হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ের সিগন্যাল পার হওয়ার পর পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এরপর পুলিশ সেখানে ব্যারিকেড দিলে কিছু কর্মী ব্যারিকেড অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে ৭/৮ জন নেতা-কর্মী আহত হয় বলে জানিয়েছেন সিপিবির গণমাধ্যম শাখার সমন্বয়ক মঞ্জুর মঈন।
মঞ্জুর মঈন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, পুলিশের ধস্তাধস্তিতে আমাদের ৮ জন নেতাকর্মী আহত হন। এরা হলেন, শ্রমিক নেতা হযরত আলী, কর্মী রফিকুল ইসলাম, শাখারফ হোসেন, খালিকুজ্জামান লিপন, ফখরুদ্দিন কবির প্রমুখ। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পরে পুলিশি বাধায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি আটকে যাওয়ার পর তারা দৈনিক বাংলা মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
এ বিষয়ে বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালিকুজ্জামান বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার দুই কোটি টাকার মামলা নিয়ে তৎপর। কিন্তু দেশের ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার হচ্ছে। অথচ এসব লুটেরাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের ফলে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এতে প্রতিয়মাণ হয় যে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে দেশের আর্থিক খাত উজার করে দেয়া হচ্ছে।
সরকার যদি লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে গণআদালত করে তাদের বিচার করা হবে বলে হুমকি দেন এই প্রবীণ নেতা।সমাবেশে সিপিবির সাধারন সম্পাদক মো. শাহআলম বলেন, দুদক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মহিরতিদের বিচারের আওতায় আনছে না। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক ঠুটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন কবির, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ।










