রাজধানী কলম্বো থেকে সড়ক পথে ১১৯ কিলোমিটার দূরের পর্যটন নগরী গল। শ্রীলংকার সাউথ ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রশাসনিক রাজধানী গলের সমুদ্র সৈকতে আছড়ে পড়ছে ভারত মহাসাগরের বিশাল সব টেউ। চোখ জুড়ানো সেই সৌন্দর্য দেখতে সারা দুনিয়া থেকে লংকায় পা রাখে হাজারো পর্যটক। লাখখানেক অধিবাসীর সঙ্গে দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে গল সবসময়ই উৎসবের নগরী।
সমুদ্রপাড়ের গল দুর্গ’র রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবে স্বীকৃত গল দুর্গ একসময় ছিলো বিদেশী জলদস্যুদের হাত থেকে লংকাদ্বীপকে রক্ষার প্রথম ও শেষ ডিফেন্স লাইন। ষোড়শ শতকে পর্তুগিজ এবং আঠারো শতকে ওলন্দাজ জলদস্যুরা শ্রীলংকা জয় করেছিলো গল দুর্গ দখলের পর। এরপর ইংরেজদের শাসন শেষে স্বাধীনতা।
ছবির মতো সুন্দর শহরের অন্যতম সেরা অলংকার গল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গল দুর্গের ঠিক বিপরীতে স্টেডিয়ামটি শহরের কেন্দ্রস্থলে। গল ক্রিকেট ক্লাবের এই মাঠটি শুরুতে ছিলো ঘোড়দৌড়ের জন্য। ক্রিকেট খেলা শুরু হয় ১৮৭৬ সালে। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট ভেন্যুর আদলে সমুদ্র লাগোয়া এই মাঠ থেকে শোনা যায় সৈকতে আছড়ে পড়া ভারত মহাসাগরের ঢেউয়ের গর্জন, জলরাশির উচ্ছ্বাস।
মাঠ ঘিরে চারদিকে ঘাসে ঢাকা মাটির উঁচু টিবি, তাতে বসতে পারেন ৩৫ হাজার দর্শক। ১৯৮৪ সালে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আয়োজনের পর ১৯৯৮ সালে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকার ম্যাচ দিয়ে গল পায় টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতি।
২০০৪’র ডিসেম্বরের ভয়াবহ সুনামি’তে হাজারো মানুষের প্রাণহানি গলকে পরিণত করে শোকের নগরীতে। গল স্টেডিয়াম পরিণত হয় সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্তদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।

এরপর তিন বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের যোগ্য ছিলো না এই মাঠ। ২০০৭ থেকে আবারো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরে। আনন্দ আর বেদনার স্মৃতি বহন করা এই মাঠ বরাবরই স্পিন বোলারদের জন্য রেখেছে সাফল্যের সব রসদ। মুরালিধরন, তার বিদায়ের পর রঙ্গনা হেরাথের মতো স্পিনাররা নায়ক হয়েছেন এর বাইশ গজে।
তবে ব্যতিক্রমী কিছুর আশায় এবার তিন পেসার দিয়ে টাইগার একাদশ সাজানো হয়েছে। হাথুরুসিংহে আর মুশফিকদের এই রণকৌশল কতটা কাজে দেয় সেটা দেখতে ম্যাচের বাকি চারদিন তাকিয়ে থাকবেন দর্শকরা।
এ পর্যন্ত এই মাঠে খেলা ২৮টি টেস্টের যেকটি নিষ্পত্তি হয়েছে তাতে সিংহভাগ অবদান স্পিনারদের। ২০১৬’র আগস্টে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলংকা টেস্ট ম্যাচে মেজবানরা জিতেছিলো ২২৯ রানে। সেই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট পেয়েছিলেন লংকান অফস্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা। যদিও অজি পেসার মিচেল স্টার্ক সেই ম্যাচে দিলরুয়ান পেরেরার চেয়ে দু’ইনিংস মিলিয়ে এক উইকেট বেশী পেয়েও দলকে হারের লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারেননি। স্টার্কের সেই পারফরম্যান্সই কি বাংলাদেশের কাছে তিন পেসার খেলানোর প্রেরণা? সময়ই হয়তো তার উত্তর দেবে।









