যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া থেকে বাংলাদেশের ফুটবলে এসে সাড়া ফেলেছেন যমজ দুই ভাই রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান। মায়ের দিকের বাংলাদেশি বংশপরিচয়ের সূত্রে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া দুই ভাই এ বছর জিতেছেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তারা।
ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। বাংলাদেশের হয়ে শেষ পেনাল্টিতে বল জালে জড়িয়ে দলকে শিরোপা এনে দেন রোনান। ভাইয়ের এমন সিদ্ধান্তে অবশ্য অবাক হননি ডেকলান।
ডেকলান বলেন, ‘ওকে এটা বলারও দরকার ছিল না। পুরো সময়ই আমি জানতাম, সে এমনটাই করবে। শেষ পেনাল্টিতে জেতার সুযোগ পেলে সে এমনটাই করবে- এটাই তো ওর স্বভাব।’
রোনানও পরে স্বীকার করেন, এমন পরিণতি তিনি নিজেও ভাবেননি। তার ভাষায়, ‘তুমি যদি আগে আমাকে বলতে যে ঘটনাটা এভাবে শেষ হবে, আমি বিশ্বাসই করতাম না।’
বাংলাদেশে আসার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’ পেজের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পাসপোর্ট প্রক্রিয়া শেষে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে যোগ দেন তারা।
বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে রোনান বলেন, ‘কলেজে যাওয়ার আগে আমাদের হাতে কিছুটা সময় ছিল। সেখানে গিয়ে খেলা, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং সংস্কৃতির আরও কাছাকাছি যাওয়া, এটা দারুণ হবে মনে হয়েছিল।’
শুরুতে ভাষাগত পার্থক্যের কারণে মাঠে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাদের। রোনানের ভাষায়, ‘আপনি যখন বিদেশি, শুরুতে বল পাওয়া কঠিন। কারণ আপনি ভাষাটা জানেন না এবং হয়তো ছেলেরা প্রথমে খুব একটা খুশি ছিল না যে আমরা সেখানে আছি। কিন্তু কয়েকবার বল পাওয়ার পর নিজের সামর্থ্য দেখাতে পারলে পরিস্থিতি সহজ হয়ে যায়।’
শিরোপা জয়ের পর বাংলাদেশে তাদের ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক উন্মাদনা। ঢাকায় ফিরে ফুলেল শুভেচ্ছা পান দুই ভাই। ডেকলান বলেন, ‘অনেক ফুল পেয়েছি, অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশে আমাদের দলটাই যেন নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।’
বাংলাদেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্নও তৈরি করেছে। ডেকলান বলেন, ‘আমাদের সারা বিশ্বে প্রতিভা আছে। এখন বিষয় হলো সেই প্রতিভাকে কাজে লাগানো।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ থমাস ডুলি বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের স্থানীয় ফুটবলারদের উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার কথায়, ‘আমরা এমন একটি দেশ, যেখানে সবাই ফুটবলের সমর্থক। এটা আমাদের বদলাতে হবে। আমাদের এমন একটি দেশ হতে হবে, যেখানে মানুষ ফুটবল খেলবে।’









