এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নেপাল ও চীনের স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতের হিমালয় সীমান্ত এলাকায় বুধবার আকস্মিক বন্যায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, মুহূর্তের মধ্যেই ধেয়ে আসা পানিতে তছনছ হয়ে গেছে বাড়ি-ঘর, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও হঠাৎ বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প। এছাড়া বন্যার ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে তিব্বতের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান স্থলবন্দর জিরোং পোর্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, অঞ্চলে একটি ভূমিকম্প আঘাত হানার ফলে নেপালের লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের মিশ্রণে এক ভয়াবহ তুষারধস সৃষ্টি হয়। আর তা থেকেই পরবর্তীতে এই প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যার জন্ম। নদীটি নেপাল ও তিব্বত উভয় অঞ্চলের ওপর দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে।
এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০৩ জন ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। যার মধ্যে ৬১ জন নেপালি এবং ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ রয়েছেন। ২৬টি ভিন্ন দেশের নাগরিকরা এই নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। যার মধ্যে সর্বাধিক ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত ৮ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের কোনও খোঁজ মিলছে না। বাকি নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের ১ জন করে নাগরিক।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে লেন্দে খোলা নদীর উজান এলাকায় এখনও রয়েছে, যা থেকে আবারও দ্বিতীয় দফায় বন্যা হতে পারে। হিমালয় থেকে নেমে আসা একাধিক নদী ভারতের সমতলে প্রবাহিত হওয়ায় নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য বিহার ও উত্তর প্রদেশে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জোর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবতরণ করতে পারছে না। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নদীর তীরবর্তী লোকজনকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চীন জিরোং পোর্টে অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকারী সদস্য মোতায়েন করেছে, তবে বানের কাদা ও পলি উদ্ধারকাজে বড় বাধা তৈরি করছে। অন্যান্য দেশও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত জানিয়েছে, তারা ত্রাণ ও উদ্ধারের বিষয়ে কাঠমান্ডুর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করছে।
অন্যদিকে সরকার, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি দ্রুত সাড়াদানকারী দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।









