আওয়ামী লীগ নাকি অন্য কেউ দেশ পরিচালনা করছে? তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াল্টন কেন্দ্রীয় কাযালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় ফখরুল বলেন, কোনো রাজনীতিক দল দেশ পরিচালনা করছে কিনা- আমার সন্দেহ হচ্ছে। নয়তো এভাবে দেশের সমস্ত কাঠামো নষ্ট করে দিবে কেন?
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে আজই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মির্জা ফখরুল ।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে দিচ্ছে না সরকার। এতেই আমাদের সন্দেহ।
‘ব্যক্তিগত চিকিৎসককে প্রবেশ করতে না দেয়া থেকেই সরকারের ইচ্ছার প্রকাশ পায়। খালেদা জিয়া কারাগারে ন্যুনতম সুবিধাও পাচ্ছেন না।’
নির্বাচন বিষয়ে বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করার কোনো ক্ষমতা নির্বাচনের কমিশনের নেই। আমরা তাই কি আর প্রত্যাশা করবো! যাই প্রত্যাশা করি না কেন, শেষ অবধি সবকিছু একতরফাই হবে। তবু আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে নিচ্ছি।
এসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুদুক বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। ১০ বছরে যে সরকারের নেতারা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে তা দেখছে না। আমাদের এমন অনেক নেতার তদন্ত করছে যাদের অনেকের ব্যাংক একাউন্টও নেই। আসলে দুদকের কোনো ক্ষমতা নেই। সরকার যা বলবে তাই করতে হবে।
খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে- এ ধরনের আলোচনাকে ‘গুঞ্জন’ বলেই উড়িয়ে দেন ফখরুল।
কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালে থাকার সময়ও দেখলাম, কিছু অনলাইন গণমাধ্যম এমন কিছু সংবাদ করেছে যা ভিত্তিহীন। আসলে আমাদের একটি সঠিক কাঠামো দরকার। কাঠামো নেই বলেই এই অবস্থা।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সদ্য কারামুক্ত গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
গয়েশ্বর রায় বলেন, এই সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিবে না। সরকারকে পতন ঘটিয়েই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমরা আমাদের এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। হয়তো বিজয় নয়তো মৃত্যু।








