পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী এবং দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রবীণ সম্পাদক ড্যান এগেন-কে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে তার নিজ বাসভবন থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬০ বছর।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এগেনের পরিবারকে জানিয়েছে—তার মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সহিংসতার প্রমাণ মেলেনি। তবে ময়নাতদন্তের পরও বুধবার সকাল পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
প্রায় তিন দশক ধরে দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টে কর্মরত ছিলেন ড্যান এগেন। হোয়াইট হাউস, কংগ্রেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সেই সাংবাদিক দলের সদস্য ছিলেন যারা ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা-এর ষড়যন্ত্রকারীদের তদন্তমূলক প্রতিবেদনের জন্য ২০০২ সালে পুলিৎজার পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়াও, ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল আক্রমণ-সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তার সম্পৃক্ত দল পরবর্তীতে আরও পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করে।
সংবাদকক্ষে সংবেদনশীল রাজনৈতিক কভারেজে এগেন ছিলেন এক অবিচ্ছেদ্য নাম। তাকে ‘প্রখর সংবাদবোধসম্পন্ন বিদগ্ধ সম্পাদক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ম্যাট মারে, দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক। তিনি জানান, এগেন বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য রাজনৈতিক প্রতিবেদককে নিয়োগ, সম্পাদনা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
মৃত্যুর আগে এগেন নতুনভাবে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন নোটাস-এ, যা সম্প্রতি চালু হওয়া একটি সংবাদমাধ্যম এবং দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে ছাঁটাই হওয়া সাংবাদিকদের নিয়োগ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক টিম গ্রিভ এক শোকবার্তায় বলেন, ডিসির অনেক শীর্ষ সাংবাদিক ড্যানকে তাদের দেখা সেরা সম্পাদকদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদক জোশ ডসি, যিনি আগে দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টে কাজ করেছেন, স্মৃতিচারণে বলেন—এগেন ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ। “তিনি সপ্তাহে সাত দিন, দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা কাজ করতেন, বলেন ডসি।
এছাড়া, দ্যা আটলান্টিক-এর সাংবাদিক অ্যাশলি পার্কার এগেনকে একজন সহযোগিতামূলক ও দক্ষ সম্পাদক হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি রিপোর্টারদের ওপর আস্থা রাখতেন এবং তাদের কাজকে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।
ড্যান এগেন কর্মজীবন শুরু করেন দ্যা ওয়াশিংটন পোস্টে মেট্রো রিপোর্টার হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি সম্পাদকীয় দায়িত্বে এসে সংবাদপত্রটির রাজনৈতিক কাভারেজকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রাক্তন স্ত্রী সাংবাদিক স্টেফানি আর্মার-এর সঙ্গে দুই সন্তানের জনক ছিলেন। এছাড়া তিনি এক বোন রেখে গেছেন।
এ ঘটনায় বিস্তারিত জানতে স্থানীয় পুলিশের কাছে মন্তব্য চেয়েছে দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট।








