ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে হলেও কংগ্রেস, সিপিআই(এম), আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টিসহ অন্যান্য দলও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জোর প্রচার-প্রচারণা শেষে আজ (২৩ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দফার এই নির্বাচনে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা অনেকের কাছে ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’র মতো মনে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ভোট উপলক্ষে দিল্লি থেকে প্রায় দুই লাখ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও এসেছে নতুন কিছু নিয়ম। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে স্লিপ তুলে দেবেন প্রিসাইডিং অফিসার। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ভোটারদের সুবিধার্থে বুথের সামনে বিশেষ মোবাইল কাউন্টার রাখা হয়েছে, যেখানে ফোন জমা রেখে ভোট দিতে পারবেন তারা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি জয়ী হলে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো হিন্দুত্ববাদী আদর্শভিত্তিক সরকার গঠিত হবে, যা রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। যদিও বিভিন্ন জনমত জরিপে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে, তবুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।
অল্প ভোটের ব্যবধানেই ফল নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৫৭টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল ৮ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে, যা এবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই ৫৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টি দক্ষিণবঙ্গে এবং ১০টি উত্তরবঙ্গে অবস্থিত।
দক্ষিণবঙ্গ তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে বিজেপি বাড়তি জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে কংগ্রেস কিছু বিজেপিবিরোধী ভোট টানতে পারে, যা তৃণমূলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এছাড়া নির্বাচনের আগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ও এআইএমআইএমের জোটে ভাঙন ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরও ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪ মে ভোট গণনার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।








