দীর্ঘ দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে অপহরণের আসামি মো: মাহিন।
৩ নভেম্বর সকালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডার হোলেন সেন্টারের সামনে থেকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা স্কুলছাত্রী শামীমা আক্তার হিমুকে উদ্ধার করে পিবিআই। রোববার পিবিআই ঢাকা মেট্রো’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে এসব তথ্য জানান।
২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের শালবনের মিস্ত্রিপাড়া থেকে হিমুকে অপহরণ করে মাহিন। ওইদিন রাতে হিমুর মা হাসি আক্তার বাদী হয়ে তার মেয়ে অপহৃত হওয়ার ঘটনায় রংপুর জেলার কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী২০০৩) এর ৭/৩০ মামলা (মামলা নং-২২) দায়ের করেন।
কোতয়ালী থানা অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার ও অপহরণের ঘটনায় জড়িত মুল আসামী মোঃ মাহিনকে গ্রেফতার করতে না পেরে তাকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত পলাতক আসামী মাহিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ তার ক্রোকী ও হুলিয়া পরোয়ানা ইস্যু করে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, পিবিআই জানতে পারে ভিকটিমকে অপহরণ করে নিয়ে প্রথম দিকে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানা এলাকায় আটক রাখে। অপহরণকারী মাহিন আটক হওয়ার ভয়ে জয়দেবপুর থানা এলাকা ছেড়ে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভিকটিমকে নিয়ে বসবাস করে।
মাহিন ভিকটিমসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত করে রাখে জানিয়ে বশির আহমেদ বলেন: ভিকটিম তার পরিবার ও নিজের জীবন রক্ষার্থে আসামীর কথামতো চলতে বাধ্য হয়। হিমুকে অপহরণের পর মাহিন পুলিশের কাছে আটক হতে পারে সন্দেহে তার মোবাইল ফোন ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন। এবং সেখান থেকে বিক্রির টাকা দিয়ে আরেকটি মোবাইল কিনেন।
এক প্রশ্নের জবাবে বশির আহমেদ বলেন, মাহিনের ইমেইলে তার বাবার ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র ছিল। এগুলো ডাউনলোড করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানির সীমকার্ড কিনে ব্যবহার করতো সে। এভাবে ঘন ঘন সীমকার্ড ও মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে সে দীর্ঘ দুই বছর ধরে আত্মগোপনে থাকে। হিমুর পরিবারের আশংকা ছিল মাহিন তাকে বিদেশ পাচার করে দিতে পারে।
বশির আহমেদ জানান, মামলাটি এখনো আদলতের কাছে বিচারাধীন।আসামি মাহিন ও উদ্ধারকৃত স্কুলছাত্রী হিমুকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ হেফাজতে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।










