দীর্ঘ খেলার মাঝে খানিকটা ছুটি পাওয়ায় কাজিনদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় অবকাশ
কাটাতে গেছেন তাকসিন আহমেদ তাজিম। সেখান থেকে মালদ্বীপে যাবেন। বেশ কয়েকটা
দিন দেশের বাইরে থাকার কারণে এবারের জন্মদিনটি পরিবারের সঙ্গে থাকেছেন না
জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান পেসার। তাতে কী, মধ্যরাতে ভিডিও কনফারেন্সে কেক
কেটে তার জন্মদিন পালন করেছেন মা-বাবা।
চ্যানেল আই অইলাইনকে ব্যতিক্রমী উদযাপনের কথা জানিয়েছেন পেসার তাসকিনের বাবা এম এ রশিদ মনু।
তিনি বলেন: রাত ১২টা এক মিনিটে পরিবারের সবাইকে নিয়ে তাসকিনকে ভাইবারে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আজ সারাদিনই ওর মা বলতে থাকবে, ছেলেটার আজ জন্মদিন, ছেলেটার আজ জন্মদিন। ছেলে দেশে নেই, তবে ছেলের জন্মদিন বলে কথা! ছোট আয়োজন তো থাকছেই।

ছেলেবেলায় তাসকিন কীভাবে জন্মদিন উদযাপন করতেন প্রশ্ন করলে তাসকিনের বাবা বলেন, ছোট বেলায় ওর জন্মদিনের সমস্ত পরিকল্পনা ও নিজেই করতো। এমন কি কেকটা পর্যন্ত নিজেই কিনে আনতো। তবে তাসকিন ছোটবেলা থেকে একটু একরোখা। যেটা বলবে সে সেটাই করবে। বড় হয়েও পরিবর্বতন হয়নি।
‘দেখা যায় রাতের বেলা ওর কিছু খেতে ইচ্ছে করছে, সেই মুহূর্তে রাত যতই হোক আমাকে নিয়ে বের হবে সেই খাবার খুঁজতে। অবশ্য মায়ের হাতের কাচ্চি বিরিয়ানি তার পছন্দের খাবার। দেশের বাইরে থেকে ফিরলেই মায়ের হাতে কাচ্চি খাওয়ার বায়না করে,’ বলে জানান তাসকিনের বাবা।
তিনি জানালেন, একসময় বাপ-ছেলে একসঙ্গে শপিং করতাম। কিন্তু এখন সেভাবে করা হয় না। কারণ রাস্তায় বাপ-ছেলে বের হলে বাবাকে ঠেলে সবাই ছেলের সঙ্গে আলাপ করতে চায়। তাই আগের মতো তাসকিনের সঙ্গে ওভাবে শপিং এ যেতে পারি না। তবে বাবার সঙ্গে শপিং’এ না গেলে নাকি তার শপিং হয় না।
‘একরোখা হলে কি হবে! ছেলেটা খুব আত্মত্যাগী। অপরের জন্য নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিতে পারে। তাছাড়া ও একটু লাজুক প্রকৃতির, সবার সঙ্গে তাই মিশতে পারে না।’
বাবা নাকি মা কাকে বেশি ভালোবাসে তাসকিন?
একটু হেসে তাসকিনের বাবা বললেন, ছেলেরা তো একটু মায়ের পাগল বেশি হয়। মা বলতে তাসকিন সবসময় অজ্ঞান। দেশের বাইরে থেকে যখন ফিরবে তখনি মায়ের জন্য শাড়ি নিয়ে আসবে। এবারো ভারত থেকে আসার সময় শাড়ি নিয়ে এসেছে। তবে বাবাকেও সে অনেক ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। আসলে আমি তো ওর সবসময় চলার পথের সঙ্গী।

‘বাইরে ওর সমস্ত কাজ আমি নিজেই সামলাই। খেলার মাঠে থেকে শুরু করে সবকিছুতেই আমি সঙ্গে থাকি।’
যার বলের গতি ব্যাটসম্যানদের ভয় পাইয়ে দেয় সেই দুর্দান্ত পেসার তাসকিন কিন্তু তার বাবাকে খুব ভয় পান। এমনটি জানিয়ে তাসকিনের বাবা মনু বলেন, একটি মজার স্মৃতি বললে বুঝতে পারবেন। তাসকিন যখন মোহাম্মদপুর বয়েজে ক্লাস ফাইভে পড়ে তখন একটি ছেলেকে স্কেল ছুঁড়ে মেরে আহত করেছিলো। তখনি স্কুল থেকে আমার কাছে বিচার আসে, সেই থেকে কিছুদিন ভয়ে আমার কাছে আর আসতো না সে।
তবে ছোটবেলায় তাসকিনের দাদি ছিলো তার অন্যায়-আবদার পূরণ করার একমাত্র মানুষ। তার নাতিকে বকা দিতে গেলেই উল্টো আমাকেই বকা খেতে হতো। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার নাতিকে দিতেন। আর এখন সেই কাজটি করেন তাসকিনের মা।

তাসকিনের মোবাইল ফোন রাতে তার বাবার হেফাজতে থাকে। এ প্রসঙ্গে ড্যাসিং পেসার তাসকিন আহমেদের বাবা বলেন, আসলে ওকে তো একটা রুটিনের মধ্য দিয়ে চলতে হয়। বেশি রাতে যেনো ফেসবুক ও ফোনে কথা না বলতে পারে তাই অামার কাছে রাখি। কারণ এটা ওর জন্য ক্ষতিকর। তবে তাসকিনের ফোন রাখা বিরক্তিকর। রাত একটা নেই দুটো নেই মেয়ে ফ্যানরা ফোন দিতেই থাকে। ফোন দিলেই বলি আমি তাসকিনের বাবা, পরে ফোন করো।
চ্যানেল আই অনলাইকে তিনি বলেন, আমার ফেসবুক আইডি আছে। এক মেয়ে বাচ্চা ভুল করে আমার আইডিকে মনে করেছে তাসকিনের আইডি। তাই মাঝে মাঝেই তাসকিনের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য নক করতো। ওই বাচ্চাটার সঙ্গে কথা বলে আমিও বুঝলাম সে আমাকে তাসকিন ভেবে কথা বলেছে। আমি তখন সেই মেয়েকে মজা করে বলি আমি তাসকিনের নানা, মেয়েটি বলে তাহলে কি তাসকিন আমার মামা? 
তাসকিনের ছেলে ফ্যানের চেয়ে মেয়ে ফ্যান বেশি কি না জিজ্ঞেস করলে খানিকটা হেসে তিনি বলেন, আমার চেয়ে আর কে বেশি জানবে? আসলে মেয়ে ফ্যানরা ওর খেলা পছন্দ করেই ওকে ফোন দেয়। ওর সঙ্গে কথা বলতে চায়, দেখা করতে চায়। রুটিনের মধ্য দিয়ে চলতে হয় বলেই সব ফ্যানদের সঙ্গে কথা বলতে পারে না।
জীবনসঙ্গী হিসেবে তাসকিন ও তার বাবার পছন্দ একইরকম। তবে তাসকিন একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার বাবার স্বপ্ন সারাজীবন ছেলের পাশে থাকার। ভবিষ্যতে ছেলে কী করবে সেটা ভবিষ্যত বলে দেবে বললেও তাসকিনের বাবার একটাই চাওয়া, পুত্রবধূকে হাসিখুশি হতে হবে। কারণ তাসকিনের মা খুব আন্তরিক আর প্রাণখোলা।
‘আর যেহেতু তাসকিন একজন সেলিব্রেটি তাই ওর বাসায় অনেক মানুষ আসবে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলবে যেমনটি ওর মা করে।’ 
তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে তার বাবা বলেন, দেখুন তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসি যা বলেছে তা নিয়ে আমি কিছুই বলবো না। তাসকিন যখন পরীক্ষা দিয়েছে হয়তো তখন কোনো খুঁত বের হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে আসার পর বাংলাদেশের বোলিং কোচ বলেছেন, ওর অ্যাকশনে কোনো সমস্যা নেই।
আমি মনে করি তাসকিন সবার দোয়ায় খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরবে। আর বিসিবি তো ওর পাশে রয়েছে। শ্রীলংঙ্কা থেকে দেশে ফিরেই আবার অনুশীলন শুরু করবে তাসকিন। আসলে গত দু’বছর ধরে ইনজুরির কারণে ছেলেটা ভালো করে খেলেতে পারছে না। তাই ওর জন্মদিনে দেশবাসীর কাছে তাসকিনের জন্য দোয়া চাইলেন তার বাবা। 
বিশ্বকাপ টি-টুয়েন্টি বাছাইপর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আম্পায়ারদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির পরীক্ষার পর এখন সাময়িকভাবে আন্তজার্তিক ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ আছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তবে শিগগিরই তিনি ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক।
একুশে পা দেয়া তাসকিন ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে উঠা মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তাসকিন, ২৭.৩১ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ১৯টি।
জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার আগেই নেট জেনারেশনের কাছে সেনসেশনে পরিণত হয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ২০১২ সালে ইংল্যান্ড-১৯ দলের বিপক্ষে তার খেলার একটি ভিডিও ইউটিউবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো।








